আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়না

Dilip Ghosh : ১৫ দিন অনুপস্থিত থাকলেই পঞ্চায়েতে বসবে প্রশাসক, বিধানসভায় আসছে সংশোধনী বিল !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- পঞ্চায়েত স্তরে কাজের গতি বাড়ানো ও দুর্নীতি রুখতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। শনিবার বিধানসভার অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পঞ্চায়েত (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’। নতুন নিয়মে প্রধান-উপপ্রধানের অনুপস্থিতিতে সরাসরি প্রশাসক নিয়োগ এবং তহবিল খরচে কড়াকড়ি আনা হচ্ছে।

নতুন সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান যদি ১৫ দিনের বেশি সময় অনুপস্থিত থাকেন, এবং নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে কেউ দায়িত্ব নিতে রাজি না হন, তাহলে জনপরিষেবা ব্যাহত হওয়ার কারণে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ একজন এক্সটেনশন অফিসার বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার আধিকারিককে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করতে পারবেন।

এছাড়াও আর্থিক ক্ষেত্রে বড় বদল আসছে। গ্রাম পঞ্চায়েত তহবিল থেকে অর্থ প্রদানের আদেশে এখন থেকে এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। চেকে যৌথভাবে স্বাক্ষর করবেন এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও সচিব। প্রধানের একক সই আর গ্রাহ্য হবে না। প্রতি মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাবও এখন থেকে এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের দায়িত্বে থাকবে।

বৈঠকের ক্ষেত্রেও নিয়ম বদল। প্রধান-উপপ্রধানের অনুপস্থিতিতে টানা দুই মাস গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈঠক না হলে, সংশ্লিষ্ট বিডিও-র অনুমতি নিয়ে পঞ্চায়েতের সচিব বৈঠক ডাকতে পারবেন। সেখানে এক্সটেনশন অফিসার এবং এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পর্যবেক্ষক হিসাবে উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে পঞ্চায়েতের কাজ খতিয়ে দেখতে জেলা সফরে নামছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সামনের সপ্তাহেই তিনি যাবেন হাওড়া ও হুগলিতে। আবাস যোজনা, অন্নপূর্ণা যোজনা, জি-রাম-জি প্রকল্পের অগ্রগতি তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।

সামগ্রিকভাবে এই সংশোধনীর মাধ্যমে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। প্রধান-উপপ্রধানের ক্ষমতা কমিয়ে আধিকারিকদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ায় গ্রাম স্তরে প্রশাসনিক গতি বাড়বে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *