আত্মরক্ষার পাঠ দেওয়ার নামে নাবালিকাদের লাগাতার যৌন নিগ্রহ ক্যারাটে শিক্ষকের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ যে হাত মেয়েদের আত্মরক্ষার পাঠ দিয়ে স্বাবলম্বী করার কথা ছিল, সেই হাতই বেছে নিল লালসার পথ। শ্লীলতাহানি বা ইভটিজিংয়ের হাত থেকে বাঁচতে ক্যারাটে ও কুংফু শিখতে এসে শিক্ষকের হাতেই দিনের পর দিন যৌন নিগ্রহের শিকার হতে হলো নাবালিকাদের। খাস কলকাতার সার্ভে পার্ক থানা এলাকায় এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শিউরে উঠছেন দুঁদে পুলিশ আধিকারিকরাও। শেষপর্যন্ত চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির তৎপরতায় পকসো আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত মার্শাল আর্ট শিক্ষক প্রসেনজিৎ দাসকে।
এনজিও-র হস্টেলই ছিল অপরাধের মৃগয়াক্ষেত্র!
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত প্রসেনজিৎ দাস দক্ষিণ কলকাতার সার্ভে পার্ক অঞ্চলের একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হস্টেলে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিল। এই হস্টেলে মূলত সেই সমস্ত নাবালিকারা থাকত, যাদের মা-বাবা নেই অথবা যারা অত্যন্ত অসহায় ও পরিবারহীন। পড়াশোনার পাশাপাশি এই আবাসিকদের খেলাধুলো ও ক্যারাটে শেখানোর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল প্রসেনজিতের ওপর। আর এই সুযোগ নিয়েই সে নিজের কুকীর্তির জাল বিছিয়েছিল বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, মার্শাল আর্ট শেখানোর বাহানায় দিনের পর দিন নাবালিকাদের আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করত প্রসেনজিৎ। অসহায় কিশোরীরা লোকলজ্জা ও ভয়ে প্রথমে মুখ খোলার সাহস পায়নি। এরপর আরও একধাপ এগিয়ে, ‘আলাদা ক্লাস’ নেওয়ার নাম করে হস্টেলেরই নির্জন কোণায় ডেকে নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর লাগাতার যৌন নিগ্রহ চালানো হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।
এক কিশোরীর সাহসিকতা ও ঘটনা প্রকাশ
সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবরের বাসিন্দা এক নাবালিকার মাধ্যমেই গোটা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর ওই অসহায় কিশোরীকে তার পরিচিতরা সার্ভে পার্কের এই হস্টেলে রেখে গিয়েছিলেন। সেখানে ক্যারাটে শিখতে গিয়েই সে প্রসেনজিতের লালসার শিকার হয়। মাসের পর মাস এই অত্যাচার ও হুমকি সহ্য করতে করতে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করে মেয়েটি।
হস্টেলেরই অন্য এক শিক্ষকের চোখে কিশোরীর এই অস্বাভাবিক আচরণ ও আতঙ্ক ধরা পড়ে। তিনি সহানুভূতির সঙ্গে জানতে চাইলে, কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের ওপর হওয়া সমস্ত অত্যাচারের কথা খুলে বলে ওই নাবালিকা।
তদন্তে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি ও পুলিশ
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে হস্টেল কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির দ্বারস্থ হন। কমিটির সদস্যরা দ্রুত হস্টেলে এসে নির্যাতিতা নাবালিকার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তাকে একটি সুরক্ষিত হোমে স্থানান্তরিত করেন।
এরপর প্রথমে রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে, ঘটনাস্থল সার্ভে পার্ক থানা এলাকায় হওয়ায় পুলিশ একটি ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করে মামলাটি সার্ভে পার্ক থানায় স্থানান্তর করে। ঘটনার তদন্তে নেমে সার্ভে পার্ক থানার পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক প্রসেনজিৎ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, আর কতজন নাবালিকা এই নরপিশাচের লালসার শিকার হয়েছে।
