মেদিনীপুর মেডিক্যালে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন বিতর্কে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারসহ ৫ জনকে শোকজ স্বাস্থ্য দপ্তরের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মেদিনীপুরঃ ২০২৫ সালের পর ২০২৬-এও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি! মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক বৃদ্ধা রোগীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠল। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। কর্তব্য গাফিলতির অভিযোগে হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার, অ্যাডিশনাল সুপার, স্টোর ইনচার্জ, সিস্টার ইনচার্জ এবং একজন নার্সসহ মোট ৫ জনকে তড়িঘড়ি শোকজ করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতেই এই শোকজ নোটিস হাসপাতালে এসে পৌঁছায়।
বুক জ্বালা শুরু হতেই চোখে পড়ল মারাত্মক সত্য!
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত রোগীর নাম মানসী দে। তিনি মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লির বাসিন্দা। গত ৫ জুলাই কিডনি ও হার্টের সমস্যা নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যালে ভর্তি করা হয় ওই বৃদ্ধাকে। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, তাঁর স্ট্রোক হয়েছে এবং চিকিৎসা স্বরূপ তাঁকে স্যালাইন দেওয়া শুরু হয়।
বৃদ্ধার ছেলের অভিযোগ, গতকাল বিকেল থেকে হঠাৎই তাঁর মায়ের বুকে তীব্র জ্বালা শুরু হয়। শারীরিক অস্বস্তি বাড়ায় সন্দেহবশত তিনি স্যালাইনের বোতলের দিকে নজর দিতেই চমকে ওঠেন। দেখা যায়, যে স্যালাইনটি রোগীকে চালানো হচ্ছিল, সেটির মেয়াদ চলতি বছরের মার্চ মাসেই ফুরিয়ে গিয়েছে! অর্থাৎ, প্রায় ৩-৪ মাস আগের মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়া হচ্ছিল ওই মুমূর্ষু রোগীকে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তড়িঘড়ি পদক্ষেপ ও বৈঠক
স্যালাইনের এক্সপায়ারি ডেট দেখামাত্রই রোগীর পরিবার হাসপাতালের সুপারসহ সমস্ত প্রশাসনিক স্তরে লিখিত অভিযোগ জানান। খবর পাওয়া মাত্রই আর সময় নষ্ট করেনি স্বাস্থ্য দপ্তর। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে মেদিনীপুর মেডিক্যালে পাঠানো হয় স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হাসপাতালের সুপার এবং মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন এবং পুরো ঘটনাটির একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে জমা দেন। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এই ৫ আধিকারিক ও কর্মীকে শোকজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মেদিনীপুর মেডিক্যালে ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি’
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্যালাইন নিয়ে এই বিতর্ক কিন্তু প্রথম নয়। এর আগে গত ২০২৫ সালেও ৫ জন প্রসূতি মাকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল এই একই হাসপাতালের বিরুদ্ধে। সেই সময় দুই সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ল্যাব পরীক্ষার পর রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল যে স্যালাইনে কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের ২০২৬ সালে এসে একই ধরণের গাফিলতির অভিযোগ উঠায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
আপাতত স্বাস্থ্য দপ্তরের শোকজের মুখে পড়া ৫ জন কর্মী আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কী জবাব দেন, এবং এই ঘটনায় আর কারও যোগ রয়েছে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
