Hormuz-Attack : ফের জ্বলছে হরমুজ! ২৪ ঘণ্টায় তৃতীয় জাহাজে হামলা, বিশ বাঁও জলে শান্তিচুক্তি !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর চুক্তি সইয়ের পরেও থামছে না হরমুজে হামলা। মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃতীয় বাণিজ্যতরী লক্ষ্য করে হামলা হল হরমুজ প্রণালীতে। জাহাজটির সামান্য ক্ষতি হলেও নাবিকরা সকলেই সুরক্ষিত। কিন্তু এই হামলাই ফের প্রমাণ করল, কাগজে-কলমের মউ ময়দানে কোনও কাজে আসছে না।
ব্রিটেনের সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বাণিজ্যতরীতে অজ্ঞাত বস্তু এসে আঘাত হানে। জাহাজটির কাঠামোর সামান্য ক্ষতি হয়েছে। নাবিক বা জাহাজকর্মীদের কেউ হতাহত হননি। পরে জাহাজটি গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়।
ইরানের সরকারি টেলিভিশন দাবি করেছে, জাহাজটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা LNG ছিল এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় হামলা হয়েছে। তবে তেহরান সরাসরি দায় স্বীকার করেনি। কে বা কারা হামলা চালিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, সোমবারও হরমুজে দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের রেভোলিউশন গার্ড। তার ঠিক পরেই এই তৃতীয় হামলা।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের জন্য সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ৬০ দিনের একটি মউ স্বাক্ষর হয়। তাতে বলা হয়েছিল, আগামী ৬০ দিন হরমুজ দিয়ে সব বাণিজ্যতরী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। কিন্তু চুক্তি হওয়ার পরই লাগাতার হামলায় সেই চুক্তি এখন কার্যত অকার্যকর।
কাতারের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি হামলার কড়া নিন্দা করে বলেন, “আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার উপর এটি অগ্রহণযোগ্য আক্রমণ। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজার কেঁপে উঠবে। ইতিমধ্যেই ট্যাঙ্কার কোম্পানিগুলি বীমার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক জাহাজ বিকল্প পথ ধরতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে পণ্য দেরিতে পৌঁছানো এবং দাম বাড়া দুটোই এখন সময়ের অপেক্ষা।
কূটনৈতিক টেবিলে শান্তির কথা হলেও, হরমুজের জলে গোলার শব্দ থামছে না। যতদিন না এই প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে, ততদিন ইরান-আমেরিকার যে কোনও চুক্তিই থেকে যাবে শুধু কাগজের প্রতিশ্রুতি। আর তার খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকে, পেট্রোল-গ্যাসের দাম বাড়ার মাধ্যমে।
