আজকের দিনেবাংলার আয়না

বারুইপুর ‘গণধর্ষণ ও খুনে’ এনকাউন্টার প্রভাস মণ্ডল

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বারুইপুরঃ বারুইপুর গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার চরম নাটকীয় মোড়। পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হলো মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। মঙ্গলবার গভীর রাতে বারুইপুরের সূর্যপুরে অকুস্থলে ঘটনার পুনর্নিমাণ করতে নিয়ে যাওয়া হলে এই ঘটনা ঘটে।

বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা! তারপর…

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে তদন্তের স্বার্থে প্রভাসকে নিয়ে সূর্যপুরের সেই ঘটনাস্থলে যান তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, সেই সময় আচমকাই পুলিশের বন্দুক হাতিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করেই গুলি চালায় প্রভাস এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। গুলির লড়াইয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রভাস। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ও তৎপর প্রশাসন

বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনার পরই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, অপরাধীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। গতকালই বারুইপুরে সশরীরে হাজির হয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি-কে ঘটনার তদন্তের জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি এও জানান, নির্যাতিতার মৃত্যুর তদন্তে পুলিশের কোনওরকম গাফিলতি থাকলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই চরম হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের এনকাউন্টারে খতম হলো মূল অভিযুক্ত।

সিসিটিভি ফুটেজ ও বাকিদের গ্রেপ্তার

তদন্তে নেমে একটি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ প্রথম প্রভাসের সন্ধান পায়। সেই ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, ওই নাবালিকার সঙ্গে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে প্রভাস। তাকে গ্রেপ্তারের পর জেরার সূত্র ধরেই উদ্ধার হয়েছিল নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত প্রভাস বারবার বয়ান বদলে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল, তবে তাকে জেরা করেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের হদিশ মেলে।

এই গণধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে ইতিমধ্যেই কবীর মোল্লা নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফলে এই নৃশংস ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪।

পুলিশে হামলার ঘটনায় কড়া অ্যাকশন

এদিকে, বারুইপুরের ঘটনার পর পুলিশের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়েও অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *