‘ডিম থেরাপি’ নিয়ে রাজ্যকে গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা:- জন প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে ডিম ছোড়া বা তথাকথিত ‘ডিম থেরাপি’ রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যে একের পর এক নেতা ও জন প্রতিনিধির ওপর এই ধরনের হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য সরকারকে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নির্দেশিকা তৈরি করার নির্দেশ দিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। একই সঙ্গে রাজ্যে এ যাবৎ এমন কতগুলি ঘটনা ঘটেছে এবং তার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা হলফনামা দিয়ে রাজ্যকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও জন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সওয়াল-জবাব
শুনানির শুরুতে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী রাজ্যের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ”সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। আপনারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? এক-দু’জনকে গ্রেফতার করে কী লাভ হবে?” ডিভিশন বেঞ্চের অপর বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “সবার সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।”
পাল্টা সওয়ালে রাজ্যের অ্যাডিশন্যাল এজি রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, “আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নেবেন না, এটা আমরা স্পষ্ট বলেছি। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ না পেলে পুলিশ কীভাবে পদক্ষেপ নেবে?”
এই যুক্তি খণ্ডন করে আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে অবিলম্বে অন্তর্বর্তী নির্দেশের আর্জি জানান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুলিশ মব লিঞ্চিং করছে, আর জনগণ কী করবে? বিমানবন্দরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকাতেও এই ধরনের আক্রমণ চালানো হচ্ছে। খোদ মন্ত্রীরা ডিম ছুড়তে বলছেন! সরকার এর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে?” এই উত্তপ্ত সওয়াল-জবাবের পরই আদালত রাজ্যকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
‘ডিম থেরাপি’র সূচনা ও সংক্রমণ
রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে সোনারপুরে প্রথম এই ধরনের ‘ডিম থেরাপি’র শিকার হতে হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল। এরপর থেকে এই ঘটনা রীতিমতো ‘সংক্রমণে’র আকার ধারণ করেছে। শাসক দলের একাধিক জেলা স্তরের নেতা থেকে শুরু করে হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধিরা বারবার এই ধরনের নজিরবিহীন আক্রমণের মুখে পড়েছেন।
আদালতের এই কড়া নির্দেশের পর রাজ্য সরকার জন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং এই ‘ডিম সংস্কৃতি’ বন্ধ করতে কী ধরনের গাইডলাইন নিয়ে আসে, এখন সেটাই দেখার।
