কলম্বোতে ‘ট্র্যাক-২’ পর্যায়ের ভারত পাক আলোচনার প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিলেন বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত একটি নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘ট্র্যাক-২’ পর্যায়ের আলোচনার প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি। এই ‘ট্র্যাক-২’ আলোচনা সংক্রান্ত খবরের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতের বিদেশ সচিব মিশ্রি বলেন, এ ধরনের যোগাযোগ বা আলোচনা নতুন কিছু নয় এবং ভারত সরকার এগুলোকে কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দেয় না। বিদেশসচিব আরও বলেন, ভারত সরকারের অবস্থান হল, ধরনের আয়োজনে তাদের কোনও আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ, সমর্থন বা সম্পৃক্ততা নেই। এই ধরনের বৈঠককে নয়াদিল্লি কোনও গুরুত্বই দেয় না। সোমবার তা স্পষ্ট করে দিলেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি।
পহেলগাম হামলা ও সিদুঁর অভিযানের পর এবার ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রপুঞ্জ-সহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বার বার ইসলামাবাদকে দুষছে নয়াদিল্লি। এরই মধ্যে সম্প্রতি খবর ছড়ায়, গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় বৈঠক করেছেন ভারত এবং পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত সামরিক এবং কূটনীতিক কর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ দল। একাধিক সূত্রে খবর, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ওই সম্মেলনে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মলদ্বীপ, ব্রিটেন-সহ অন্য বেশ কয়েকটি দেশ অংশগ্রহণ করে।
সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে ভারত এবং পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা আলোচনায় বসেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দু’দেশের মধ্যে ‘ট্র্যাক ২ কূটনীতি’ (দুই দেশের মধ্যে কূটনীতিক আলোচনা)। এই ধরনের আলোচনা প্রক্রিয়ায় সরকারি আধিকারিকেরা ঘিরে জল্পনা বৃদ্ধি পায়। এ বার ওই বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল নয়াদিল্লি। বর্তমানের সেশেলস সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিদেশসবিচ বিক্রম মিশ্রি। সোমবার সেই দেশ থেকেই কলম্বোর বৈঠক নিয়ে বিবৃতি দিলেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিদেশসচিব বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন বিষয়ে এই ধরনের বহু অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এ ধরনের আলোচনার মধ্যে কোনও নতুনত্ব বা বিশেষত্ব নেই। আমাদের কাছে এ গুলো শুধুই বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজিত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান। সরকরি ভাবে এ সবের কোনওটির কোনও ভিত্তি নেই’। কলম্বোর এই বৈঠকে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশেরই অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বিদেশসচিব স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তান সরকারে হয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে পারি না। তবে ভারত সরকারের কথা বলতে গেলে, এই আলোচনায় সরকারি ভাবে অনুমোদিত কোনও প্রতিনিধিত্ব ছিল না। এতে ভারত সরকারের কোনও যোগও নেই, সমর্থনও নেই।”
