আজকের দিনেবাংলার আয়না

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির পরই বিধায়ক হুমায়ুনের বাড়িতে পুলিশ, তলব থানায়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক মন্তব্যের জেরে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরই মঙ্গলবার সকালে রেজিনগরের বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশ। ‘স্যাটাভাঙা মার’ ও থানা ঘেরাওয়ের মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া ২টি পৃথক মামলায় হুমায়ুন কবীরকে আগামী ৩ ও ৫ জুলাই থানায় হাজিরার নির্দেশ দিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে।

​কী ঘটেছিল?

​গত শুক্রবার রেজিনগরের কাশীপুর এলাকার একটি জনসভা থেকে বিতর্কিত মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবীর। সেখানে তিনি বলেন,
​“আমি যখন মুসলমানদের জড়ো করে করে স্যাটাভাঙা মার শুরু করব না, পালানোর পথ পাবেন না।”
​এখানেই শেষ নয়, শক্তিপুরের অপর একটি সভায় থানা ঘেরাওয়ের হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ভোটের আগের দিন তাঁর ভাইপোকে গ্রেপ্তার করার অপরাধে ১০ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘেরাও করা হবে।
​‘এনাফ ইজ এনাফ’, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
​সোমবার বিধানসভায় হুমায়ুনের এই সাম্প্রদায়িক ও উসকানিমূলক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
​“এই দুটো ঘটনার পর আমার মনে হয়েছে এনাফ ইজ এনাফ। এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর সময় এসেছে।”
​“মনে রাখবেন, এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নন। দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে সেসময় যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। এখন এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি।”
​মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র একাধিক ধারায় ২টি মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ সফরে যাচ্ছেন বলেও স্পষ্ট করে দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরেই ওই সভার ৩ জন আয়োজককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং মঙ্গলবার সকালে বিধায়কের বাড়িতে নোটিস পাঠানো হয়।

​কী বলছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর?

​পুলিশি তৎপরতা ও নোটিস প্রসঙ্গে রেজিনগরের বিধায়কের দাবি, তিনি বর্তমানে বাড়িতে নেই। তবে বাড়িতে লোক রয়েছে। হুমায়ুন কবীর জানান:
​“আমি বাড়িতে নেই। নোটিস পেলে ঠিক জানতে পারব। তারপর হাজিরা দেওয়া নিয়ে ভাবব।”
​একই সঙ্গে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তাঁর বার্তা, “কারও দাসত্ব করব না।”
​আইন আইনের পথেই চলবে নাকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়বে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *