আজকের দিনেতিলোত্তমা

তারাতলা দুর্ঘটনায় ভাগ্নের পর চলে গেলেন মামাও

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: শহরের উঁচু উঁচু ফ্ল্যাট বাড়ি, হুগলি ব্রিজ দেখার বড় ইচ্ছে ছিল দশম শ্রেণীর ছাত্র সাহিলের। মামার হাত ধরে সেই সাধ পূরণ করতে গিয়েই যে ওত পেতে ছিল যম, তা কে জানত! তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন বিপর্যয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ গিয়েছিল ভাগ্নে সাহিল সর্দারের। এবার দু’দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষরক্ষা হলো না মামা খালেক সর্দারেরও। শনিবার দুপুরে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। এই নিয়ে তারাতলার ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬ জনে।

স্বপ্ন দেখার শুরু ও মর্মান্তিক পরিণতি

নিহত খালেকের ভাই নুর আলম সর্দার জানান, দাদা খালেক সর্দার আগে মুম্বইতে প্লাম্বারের কাজ করতেন। কিন্তু করোনাকালে কাজ হারিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন এবং তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ গোডাউনে কাজ জোগাড় করেন। অন্যদিকে, ভাগ্নে সাহিল ক্লাস টেনে পড়ত। ছুটিতে সে বাসন্তির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

মামার মুখে কলকাতার গল্প শুনে সাহিলের দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল শহরটা নিজের চোখে দেখার। উঁচু বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে দূর-দূরান্তের কলকাতা দেখার জন্য বুধবার মামার কাছে জেদ ধরে সে। ভাগ্নের সেই ইচ্ছেপূরণ করতেই খালেক তাকে নিজের কর্মস্থল— তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদে নিয়ে যান। কিন্তু ছাদে ওঠার পরপরই আচমকা ভেঙে পড়ে বিশাল কংক্রিটের চাঙড়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সাহিলের। আর শনিবার দুপুরে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন মামা খালেকও।

অন্ধকারে সংসারের ভবিষ্যৎ

খালেকের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকারের ছায়া। বাড়িতে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। খালেকই ছিলেন সংসারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। আচমকা স্বামীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কার্যত শোকে পাথর হয়ে গেছেন তাঁর স্ত্রী।

এসএসকেএমে তৎপরতা

শনিবার এসএসকেএম হাসপাতালে আহতদের খোঁজখবর নিতে যান স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী চিকিৎসক ডা. শারদ্বত মুখোপাধ‌্যায়। তিনি জানান:”আহতদের অনেকেই এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।”

এদিন আহতদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন প্রাক্তন শ্রমমন্ত্রী অনাদি সাহুও। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ারে আরও দু’জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। নির্মীয়মাণ এই বহুতলে নিরাপত্তার অভাব এবং এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *