বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও, খুশি মনেই দেশে ফিরছে তুরস্ক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তুরস্কের। শেষ ম্যাচটা ছিল শুধুই নিয়মরক্ষার। কিন্তু সেই নিয়মরক্ষার ম্যাচেই চমক দিল ভিনচেঞ্জো মনতেলার দল। শক্তিশালী আমেরিকাকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করল তারা। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেও লড়াকু মানসিকতা আর শেষ ম্যাচের জয় নিয়ে গর্বিত তুরস্ক শিবির। তাই হার-জিতের হিসেব ছাপিয়ে খুশি মনেই দেশে ফিরছেন তুর্কি ফুটবলাররা। আগামী চার বছরের জন্য নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে গোটা দল।
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েও ফুটবলারদের সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত তুরস্কের কোচ ভিনচেঞ্জো মনতেলা। আমেরিকাকে ৩-২ গোলে হারানোর পর সাংবাদিক বৈঠকে এসে মনতেলা বলেন, ‘আমরা ছিটকে গিয়েছি ঠিকই কিন্তু খুশি মনেই দেশে ফিরছি।’
ফুটবলাররা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে যে ফুটবলটা খেলেছে তা ভোলা যাবে না। ‘আমরা তো জেনেই গিয়েছিলাম আমাদের বিদায় নিতে হবে। আমরা কিন্তু লড়াই থেকে হারিয়ে যাইনি। আমেরিকার বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচটাই তার প্রমাণ। মনসংযোগ অটুট ছিল বলেই আমেরিকাকে হারাতে পেরেছি।’ মন্তব্য তুরস্ক কোচের।
মাঠ ভর্তি আমেরিকার সমর্থকদের মাঝে এমন ফুটবল খেলাটা সহজসাধ্য ছিল না বলেই মনে করেন তিনি। তুরস্কের ফুটবলাররা লক্ষ্যচ্যুত হননি বলেই তাঁরা জিতে মাঠ ছেড়েছেন বলে অভিমত মনতেলার। তিনি আরও বলেন, ‘এই জয় আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী ছিল।’
হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু, হার দিয়েই শেষ। মাঝের লড়াইটা কিন্তু মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব। বিশেষ করে শেষ ম্যাচে আমেরিকার মতো দলকে তাদেরই মাটিতে হারানো সহজ কথা নয়। গ্যালারি ভর্তি প্রতিপক্ষ সমর্থকের চাপ, বিদায়ের হতাশা, সব কিছুকে পেছনে ফেলে যে জেদ আর একাগ্রতা দেখিয়েছে তুরস্ক, সেটাই ভবিষ্যতের সম্পদ। কোচ মনতেলার কথায় স্পষ্ট, এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, এটা আত্মবিশ্বাস। এই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করে দিতে চায় তুরস্ক। তাই আপাতত বিদায়ের বিষাদ থাকলেও, দলের শরীরী ভাষায় জয়ের খুশিই স্পষ্ট। সব মিলিয়ে ছিটকে গিয়েও জিতে ফিরছে তুরস্ক।
