আজকের দিনেতিলোত্তমা

আসল তৃণমূল কারা? দিনক্ষণ চূড়ান্ত করলেন স্পিকার ওম বিড়লা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: একুশে জুলাইয়ের আগেই নির্ধারিত হয়ে যাবে জোড়াফুলের ভাগ্য! কালীঘাটপন্থীরা নাকি অধুনা এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ— লোকসভায় কারা আসলে ‘আসল তৃণমূল’ এবং কাদের হাতে থাকবে দলের প্রতীক? এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও হাই-ভোল্টেজ মামলার রায় ঘোষণার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে ফেলেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সংসদীয় সূত্রের খবর, আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশনের আগেই তৃণমূলের দুই শিবিরের এই সংঘাত এবং পাশাপাশি শিবসেনার উদ্ধব শিবিরের সাংসদদের ভাঙন সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন স্পিকার।

শুনানি শেষ, বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই নতুন আসন বিন্যাস

স্পিকারের সচিবালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই তৃণমূলের দুই পক্ষের বিস্তারিত বয়ান শুনেছেন ওম বিড়লা। একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী কাকলি ঘোষ দস্তিদারেরা নিজেদের বক্তব্য স্পিকারের কাছে পেশ করেছেন, অন্যদিকে তেমনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রাও (বিদ্রোহী শিবিরের শীর্ষ নেতা) নিজেদের জোরালো যুক্তি স্পিকারের সামনে তুলে ধরেছেন। শুধু তৃণমূলই নয়, শিবসেনার বিদ্রোহী ৬ সাংসদ এবং উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের বক্তব্যও শুনেছেন স্পিকার। সূত্র বলছে, দুই ক্ষেত্রেই শুনানি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ। ২০ জুলাই বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই এই দুই হাই-প্রোফাইল মামলার চূড়ান্ত রায় চলে আসবে এবং অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই লোকসভায় দলগুলির নতুন আসন বিন্যাস কার্যকর করে দেবেন ওম বিড়লা।

দল ও প্রতীকের দখল নিতে আদালত পর্যন্ত যাওয়ার হুঁশিয়ারি সুদীপের

রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছিল, তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর হয়তো জোড়াফুলের প্রতীক, নাম এবং সম্পত্তির আশা ত্যাগ করেছেন। কিন্তু সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে। সুদীপবাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই দলের পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকচিহ্ন, সম্পদ— সেগুলো নিয়ে কী পদক্ষেপ হবে, সেগুলো বিচার্য বিষয়। তবে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বলছে, এগুলো সবই আদালতে নিষ্পত্তি হবে।” অর্থাৎ, দলের প্রতীক এবং সম্পত্তির অধিকার বুঝে নিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে তাঁরা আইনি লড়াইয়ে তথা আদালতে টেনে নিয়ে যাবেন, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট দিয়ে রেখেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘ওরা সাংসদ পদের অধিকার হারিয়েছেন’, পালটা দাবি অভিষেক শিবিরের

অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের সাফ দাবি— ওই ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনত আর সাংসদ থাকার অধিকার ধরে রাখতে পারেন না। দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়া উচিত। এই পরিস্থিতিতে স্পিকার ওম বিড়লা কী রুলিং দেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।

ক্ষমতার বাইরে প্রথম ‘একুশে জুলাই’: ছন্নছাড়া দশা জোড়াফুলের

তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে ‘একুশে জুলাই’ যেমন আবেগের, তেমনই সাংগঠনিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন ক্ষমতায় থাকাকালীন এই দিনটিকে প্রতি বছর নিজেদের রাজকীয় শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করত জোড়াফুল শিবির। কিন্তু এবারের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। রাজ্যে ক্ষমতা হারাতেই দলের দশা এখন কার্যত ছন্নছাড়া।

কারা নতুন তৃণমূল? কারা আসল তৃণমূল? কারা ঋতব্রত পন্থী, কারা সংসদে বিদ্রোহী আর সবশেষে কতজন এখনও শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টিকে রয়েছেন— তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই চরম ডামাডোলের আবহে, ২০ জুলাইয়ের আগে সংসদে স্পিকার ওম বিড়লার সিদ্ধান্তের ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে এবারের ‘একুশে জুলাই’-এর মঞ্চের ভবিষ্যৎ এবং বাংলার রাজনীতির পরবর্তী গতিপথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *