বাজেটে বড় ঘোষণা: পিপিপি মডেলে দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়বে রাজ্য
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উপকূলীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চললেও বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত বন্দর আর তাজপুরে নয়, গড়ে উঠবে পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড় এলাকায়।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট ঘোষণা করেছেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে একটি আধুনিক গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হবে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে শিল্প বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পথ খুলবে।
তাজপুরে বন্দর নির্মাণের স্বপ্ন নতুন নয় পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলেই প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছিল। বন্দরকে ঘিরে পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনাও ছিল। সেই সময় টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদানি গোষ্ঠীকে প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহপত্রও তুলে দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন এগোয়নি।
সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করেন। শিল্পপতি করণ আদানির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, তাজপুর বন্দর নির্মাণের দরপত্র সর্বোচ্চ দর হাকা সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সময় আদানি গোষ্ঠী সমস্ত শর্তপূরণ করতে পারেননি। রাজ্য সরকারের বক্তব্য,প্রয়োজনীয় জমির অভাব এবং অন্যান্য বাস্তব সমস্যার কারণে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই বিকল্প হিসেবে দাদনপাত্রবাড়কে বেছে নেওয়া হয়েছে।দাদনপাত্রবাড়ে পূর্ব মেদিনীপুরের গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে পরিবহণ, গুদামজাতকরণ, লজিস্টিকস এবং শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।
রাজ্যের প্রথম বাজেটে বীরভূম জেলার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। ময়ূরাক্ষী নদীর উপর চার লেনের একটি আধুনিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই সেতু নির্মিত হলে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। কৃষিপণ্য পরিবহণ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
