আজকের দিনেবাংলার আয়না

টাকি পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাই কোর্টে মামলা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,টাকি: ইছামতী নদীর তীরে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নোটিস জারি হতেই শোরগোল টাকি পুরসভা এলাকায়। নদীর বাঁধ সংলগ্ন একটি বেসরকারি হোটেলকে বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে পুর প্রশাসন। কিন্তু এই ডেমোলিশন নোটিস ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পুরসভার এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, এত বছর পর হঠাৎ পুরপ্রশাসনের ‘ঘুম ভাঙা’ এবং পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

৭ দিনের মধ্যে ভাঙার নির্দেশ

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ মে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে স্থানীয় পুর প্রশাসনকে অবিলম্বে এক্তিয়ার বহির্ভূত সমস্ত বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সেই নির্দেশিকা মেনেই ইছামতী নদীর বাঁধ সংলগ্ন ওই বেসরকারি হোটেল কর্তৃপক্ষকে নোটিস ধরায় টাকি পুরসভা। পুরসভার দাবি:

  • হোটেলটির নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা বা বিল্ডিং প্ল্যানের বাইরে গিয়ে করা হয়েছে।

  • পরিদর্শন ও নথিপত্র যাচাইয়ের পর দেখা গিয়েছে, ভবনের বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ বেআইনি।

এর জেরে পশ্চিমবঙ্গ পুর আইন, ১৯৯৩ এবং পশ্চিমবঙ্গ মিউনিসিপ্যাল (বিল্ডিং) রুলস, ২০০৭ অনুযায়ী হোটেল কর্তৃপক্ষকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হোটেল মালিক ওই অংশ না ভাঙলে পুরসভা নিজ উদ্যোগে তা ভেঙে দেবে এবং তার যাবতীয় খরচ আদায় করা হবে সংশ্লিষ্ট মালিকের কাছ থেকেই।

কাঠগড়ায় পুরসভা, প্রশ্ন নিরপেক্ষতা নিয়ে

পুরসভা কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে ক্ষোভ ও একাধিক প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। বাসিন্দাদের মূল অভিযোগ দুটি:

১) এতদিন ঘুমোচ্ছিল কেন পুরসভা? বছরের পর বছর ধরে নদীর তীরে এই নির্মাণ যখন তৈরি হচ্ছিল, তখন কেন নীরব ছিল পুরপ্রশাসন? ২) স্বার্থের সংঘাত ও পক্ষপাতিত্ব: স্থানীয়দের অভিযোগ, এক সময় যে পুর-চেয়ারম্যান বা বোর্ডের অনুমতি ও মদতে এই সমস্ত নির্মাণ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল, আজ তারাই আবার বেআইনি অংশ চিহ্নিতকরণের দায়িত্ব পেয়েছেন! ফলে কোন হোটেল ভাঙা হবে আর কোনটা ছাড়া পাবে, তা নিয়ে চরম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছে।

মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে তদন্তের দাবি, জল গড়াল আদালতে

পুরসভার এই চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, পুরসভার ওপর ভরসা না করে মহকুমা শাসকের (SDO) নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে ইছামতীর তীরের সমস্ত বেআইনি নির্মাণের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।

এদিকে, পুরসভার পাঠানো নোটিসকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও একতরফা দাবি করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। ফলে ইছামতীর তীরের এই বেআইনি হোটেল ভাঙা যাবে নাকি পুরসভার নোটিসে স্থগিতাদেশ পড়বে, তা এখন আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *