TMC Bank Account : মমতাকে চাপে ফেলতে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের চিঠি অরূপের, আগেই কোষাধ্যক্ষ বদল সুপ্রিমোর !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- তৃণমূলের অন্দরে ফের টানাপোড়েন। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে চিঠি দিলেন মমতার একদা আস্থাভাজন অরূপ বিশ্বাস। নিজেকে এখনও কোষাধ্যক্ষ দাবি করে ১২ জুন পাঠানো চিঠিতে সংসদীয় ও পরিষদীয় দলে ভাঙনের আশঙ্কা তুলেছেন তিনি। কিন্তু তার আগেই পাল্টা চাল দিয়ে ৫ জুন কোষাধ্যক্ষ পদে শুভাশিস চক্রবর্তীকে বসিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ আস্থাভাজনদের মধ্যে অরূপ বিশ্বাস ছিলেন অন্যতম। এবার সেই অরূপই মমতাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছেন বলে জল্পনা। ১২ জুন ব্যাঙ্কে পাঠানো চিঠিতে তিনি লিখেছেন, দলে ভাঙন ধরেছে। তহবিল কার হাতে থাকবে তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করে সুরক্ষিত রাখা হোক।
কিন্তু ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, অরূপের চিঠিতে মান্যতা দেওয়া হয়নি। কারণ ৫ জুন থেকেই তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী। আইনি পদ্ধতি মেনে রেজুলিউশন পাশ করে মিনিটস-সহ ব্যাঙ্ককে জানিয়ে দিয়েছে দল।
অরূপের এই পদক্ষেপের পিছনে একাধিক কারণ উঠে আসছে। এক, কালীঘাটে বৈঠকে অরূপের সঙ্গে তর্কাতর্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। দুই, ডেকে পাঠালেও তিনি কালীঘাটে যাচ্ছিলেন না। তিন, মেসিকাণ্ডে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে দলের অন্দরেও প্রশ্নের মুখে পড়েন অরূপ। দলকে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বলে খবর।
এর মধ্যেই জল্পনা ছড়ায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন অরূপ। জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর মেলেনি। এরপরই কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। ১২ জুন যখন তিনি ব্যাঙ্ককে চিঠি দেন, তখন বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরাও এড়াচ্ছিলেন। তাঁর হদিশ মিলছিল না।
এদিকে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টের দাবিদার ঋতব্রত শিবিরও। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতা। এ প্রসঙ্গে সন্দীপন সাহা বলেন, “অরূপ বিশ্বাস কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি মনে করেছেন, চিঠিটা না দিলে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে অনিয়ম হতে পারে।”
অরূপের হাবভাব আঁচ করেই আগেভাগে কোষাধ্যক্ষ বদলে দিয়েছেন মমতা। আইনি পথে শুভাশিসকে দায়িত্ব দিয়ে ব্যাঙ্ককে জানিয়ে রেখেছেন দল। ফলে অরূপের চিঠি কার্যত গুরুত্ব হারিয়েছে। তবে কেন ১২ জুন হঠাৎ চিঠি লিখলেন অরূপ? তিনি কি ঋতব্রতদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সুপ্রিমোকে চাপে ফেলতে চাইছেন? উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।
