হাবরায় ফের ‘কমিউনিটি কিচেন’ চালু করল বামেরা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, হাবরা: করোনাকালে চরম সংকটের সময়ে রাজ্যবাসীর কাছে ‘মসিহা’ হয়ে উঠেছিল বামেদের ‘রেড ভলান্টিয়ার্স’। এবার রাজ্য জুড়ে চলমান হকার উচ্ছেদ অভিযানের আবহে ফের একবার দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ময়দানে নামল বাম নেতৃত্ব। রেলের উচ্ছেদ অভিযানে রাতারাতি সর্বস্ব খুইয়ে বসা হাবরার হকারদের জন্য চালু করা হলো ‘কমিউনিটি কিচেন’ বা যৌথ রান্নাঘর। পেটের তাগিদে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন কাজ হারানো শয়ে শয়ে মানুষ।
বুলডোজার অভিযানে রাতারাতি বেকার শয়ে শয়ে পরিবার
প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে স্টেশন চত্বর সাফাই ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। রেলের এলাকা দখল করে থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই অধিকাংশ স্টেশনের দোকানপাট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যেটুকু বাকি আছে, সেগুলির জন্যও নির্দিষ্ট ‘ডেডলাইন’ বা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার হাবরা প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন সংলগ্ন সমস্ত দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাম নেতৃত্ব এই বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও উচ্ছেদ আটকানো যায়নি। এর ফলে রুটিরুজি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকার ছোট ছোট গুমটি ও ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিনের সামান্য আয়ে যাঁদের সংসার চলত, দোকান ভাঙার পর আগামীকাল কীভাবে উনুন জ্বলবে—তা নিয়েই এখন অন্ধকারে তাঁরা।
পাশে দাঁড়াল বামেরা, মিলছে রান্না করা খাবার
এই চরম অসহায় পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও দরিদ্র ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে হাবরা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ‘কমিউনিটি কিচেন’ চালু করেছে সিপিএম। সেখান থেকে প্রতিদিন রান্না করা খাবার তুলে দেওয়া হচ্ছে কর্মহীন হকার ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মুখে। বামেদের এই মানবিক উদ্যোগে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এ প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন বিধায়ক সত্যসেবী কর বলেন: “কমিউনিটি কিচেন চালু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হকার, ব্যবসায়ী এবং তাঁদের অসহায় পরিবারের জন্যই খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা দলীয়ভাবে এই অসহায় পরিবারগুলোর পাশে আছি। আগেও পাশে ছিলাম, আগামী দিনেও থাকব।”
‘ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা’, কটাক্ষ বিজেপির
বামেদের এই উদ্যোগকে অবশ্য রাজনৈতিক স্টান্ট বলে তীব্র কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির। হাবরার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডলের পাল্টা দাবি: “রেলের উন্নয়ন হলে সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে, দেশ ও রাজ্য এগিয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে বামেরা আসলে ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে। হকারদের ঢাল করে ওরা স্রেফ প্রচারের আলোয় থাকতে চাইছে।”
বিজেপির এই কটাক্ষের মুখে দাঁড়িয়েও বামেদের বক্তব্য, রাজনীতি পরে, আগে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়াটাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। হকার উচ্ছেদের এই আবহে হাবরার এই ‘কমিউনিটি কিচেন’ ঘিরে আপাতত উত্তপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।
