Digha Jagannath Temple-Suvendu : দিঘা জগন্নাথ মন্দির থেকে সরল ‘ধাম’, শুভেন্দুর সিদ্ধান্তে খুশি পুরীর পুরোহিত রাজেশ দৈতাপতি !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, পুরী, ওড়িশা :- দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মন্দিরের সামনে থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বিতর্কিত ‘জগন্নাথ ধাম’ নাম। তার জায়গায় লাগানো হয়েছে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’ লেখা নতুন ব্যানার। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মুখ খুললেন পুরীর প্রধান পুরোহিত তথা দিঘা মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা পুরোহিত রাজেশ দৈতাপতি।
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, পুরীর সমকক্ষ হিসেবে ‘ধাম’ শব্দের ব্যবহার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে। তাই এবার থেকে আর ধাম নয়, লেখা হবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। তবে বিগ্রহ যেখানে আছেন সেটা মন্দির হিসাবেই উল্লেখ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই বুধবার দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান ফটক থেকে সরানো হয় ‘জগন্নাথ ধাম’ লেখা ব্যানার। রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল এবং কলকাতা ইসকনের সহ-সভাপতি তথা দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাসের উপস্থিতিতে নতুন ব্যানার লাগানো হয়।
এই ইস্যুতে শুভেন্দু অধিকারীর পাশে দাঁড়ালেন পুরীর প্রধান পুরোহিত রাজেশ দৈতাপতি। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা তিনিই করেছিলেন। বুধবার তিনি বলেন, “আমি দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছি। তবে কয়েকটি ভুল ছিল। তখনই আমি বলেছিলাম। কিন্তু আমার কথা শোনা হয়নি।”
রাজেশ দৈতাপতির দাবি, “প্রথমে পাথরের জগন্নাথ মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে জানাই। তারপরেই নিমকাঠের মূর্তি বানানো হয়। পাশাপাশি ‘জগন্নাথ ধাম’ নামটি বাদ দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কারণ, চার ধামের অন্যতম ধাম হল ‘পুরীর জগন্নাথ ধাম’। তারপরেও ধাম শব্দটি রেখে দেওয়া হয়। যা নিয়ে আমার মনের মধ্যেও একটা ক্ষোভ ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দিয়ে সনাতন ধর্মের মানুষের আবেগ রক্ষা করেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমি প্রভু জগন্নাথদেবের কাছে প্রার্থনা করি ঈশ্বর যাতে শুভেন্দু অধিকারী সফলতার সঙ্গে রাজ্য পরিচালনা করতে পারেন।”
রাজেশ দৈতাপতি জানান, তিনি আগেই বলেছিলেন মন্দিরে জগন্নাথদর্শনে হিন্দু ধর্মের মানুষ ছাড়া অন্য কোনও ধর্মের মানুষ যাতে প্রবেশ না করে, তার জন্য বোর্ড লাগানো হোক। কিন্তু সেই কথাও শোনা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদন, “লক্ষ লক্ষ জগন্নাথদেবের ভক্ত মন্দিরে আসছেন, তাই মুখ্যমন্ত্রী যেন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে মন্দিরের মতই পরিচালনা করেন।”
বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য ও পুরীর শ্রীক্ষেত্র ধামের মাহাত্ম্য অক্ষুণ্ণ রাখতেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইসকন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে ইতিমধ্যে স্বাগত জানিয়েছে ইসকন।‘ধাম’ বিতর্কে ইতি টানল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের নামফলক। পুরীর পুরোহিত রাজেশ দৈতাপতির দীর্ঘদিনের ক্ষোভের অবসান হল। সনাতন ধর্মের ভাবাবেগকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পুণ্যার্থীরা। এখন থেকে ‘ধাম’ নয়, দিঘায় জগন্নাথ দর্শন হবে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’-এ।
