১৮ জন সাংসদের দলত্যাগের আশঙ্কা! দিল্লিতে অভিষেকের তড়িঘড়ি সফর ঘিরে জোর চর্চা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে মতভেদ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার এর নেতৃত্বে নতুন তৃণমূল আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে।এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই অভিষেক দিল্লিতে গিয়েছেন। যদিও তাঁর সফরের কারণ নিয়ে দল এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সংসদীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য বড়সড় পরিবর্তনের আশঙ্কাই এই সফরের নেপথ্যে থাকতে পারে।রাজ্যে বিধানসভায় পরিষদীয় দলের পর এবার সংসদীয় দলে ভাঙন ধরতে পারে। সংসদে প্রায় ১৮ জন দল ছাড়তে পারেন বলে সূত্রের খবর।আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই লোকসভায় তৃণমূলের একাংশের সাংসদদের অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট উত্তপ্ত। বিধানসভায় তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের বেশিরভাগ বিধায়ক ভেঙে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে প্রধান বিরোধীদলের মর্যাদা আদায় করে নিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে।যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও ঘোষণা হয়নি। তবুও সম্ভাব্য দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।
এই আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা কিংবা কেন্দ্রীয় স্তরে রাজনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁকে আগে থেকে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। আগামী ৮ জুন, সই জাল মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে ভবানী ভবনে তলক করেছে সিআইডি। এর আগে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১০দিন সময় চেয়েছিলেন তিনি কিন্তু রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা তা গ্রাহ্য করেনি।আগামী আটই জুন সোমবার, বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের আসন্ন বৈঠক রয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই কেন হঠাৎ অভিষেক দিল্লি গেল তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
