“আরশোলারা ভয় পায় না!” আম্বেদকরের বই হাতে গর্জে উঠলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি:- নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে এক অভিনব ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে শামিল হল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রযুক্তিবিদ অভিজিৎ দীপকে বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদ ছাড়তেই হবে। আরশোলারা ভয় পায় না, তারা মরেও না। তাই এই লড়াই চলবে। আমি এখানে এসেছি সেই সমস্ত ভাই-বোনদের জন্য, যারা এখনও স্কুলে পড়াশোনা করছে।”
বিমানবন্দরেই পুলিশের ‘সবুজ সংকেত’, হাতে আম্বেদকরের বই
আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে শুক্রবার রাতেই দিল্লি বিমানবন্দরে এসে নামেন অভিজিৎ দীপকে। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এবং তাঁর হাতে যন্তরমন্তরে প্রতিবাদের লিখিত অনুমতিপত্র তুলে দেন। পুলিশি অনুমতি মেলার পরেই দীপকে তাঁর সমর্থকদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার পরিবর্তে সরাসরি যন্তরমন্তরে জড়ো হওয়ার ডাক দেন। বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর সময় দীপকের হাতে ভারতের সংবিধান প্রণেতা ডঃ বিআর আম্বেদকরের আত্মজীবনী দেখা যায়।
২ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন, সমর্থকদের জন্য ‘বিশেষ’ নির্দেশিকা
শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যন্তরমন্তরে এই কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকা জুড়ে অন্তত ২ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। আন্দোলন যাতে সম্পূর্ণ অহিংস ও সুশৃঙ্খল থাকে, সে জন্য সিজেপি (CJP) নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সমর্থকদের জন্য একগুচ্ছ আকর্ষণীয় নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল:
-
বই ও জাতীয় পতাকা: শিক্ষার অধিকারের দাবি জানাতে সবার হাতে বই এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে হাজির হতে বলা হয়।
-
ভিডিও রেকর্ডিং: কর্মসূচিস্থলের সমস্ত গতিবিধির ওপর নজর রাখতে এবং পুলিশের যেকোনো পদক্ষেপ ক্যামেরাবন্দি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
-
উস্কানি এড়ানো: কোনো রকম প্ররোচনায় পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের বার্তা দেন দীপকে। একা না এসে পরিবার ও বন্ধুদেরও সঙ্গে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
-
রোদের সতর্কতা: দিল্লির তীব্র গরম ও হিটওয়েভ থেকে বাঁচতে সানস্ক্রিন মেখে, পর্যাপ্ত জল খেয়ে এবং বাড়ি থেকে পেটভরে খেয়ে তবেই প্রতিবাদস্থলে পৌঁছনোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রধান বিচারপতির ‘মন্তব্য’ এবং ককরোচ পার্টির উত্থান
এই সংগঠনের নামের পেছনে রয়েছে এক অভিনব ইতিহাস। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। তিনি দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তাঁর মতে, ওই তরুণ-তরুণীরা অন্য কোনো পেশায় জায়গা না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা আরটিআই (RTI) কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং সবাইকে আক্রমণ করেন।
প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের প্রতিবাদেই গত ১৬ মে একটি ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ বা ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে পথ চলা শুরু করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে এই সংগঠন।
“এই দেশ আমাদের সকলের”: দেশরক্ষার ডাক
লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধ্বংসকারী নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরব অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করলেও তিনি সাফ জানিয়েছেন, “আমরা আর কত দিন ভয়ে মুখ বুজে থাকব? এই দেশ কোনো নির্দিষ্ট একটা দলের নয়, এই দেশ আমাদের সকলের।” এক্স হ্যান্ডলে এক ভিডিওবার্তায় তিনি সকলকে ভারতের সংবিধানের পথ অনুসরণ করে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।
