এবার ৩০০ কোটির মাটি চুরির অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ডায়মন্ড হারবার: কয়লা পাচার, নিয়োগ দুর্নীতি এবং ত্রিপল চুরির পর এবার মাটি চুরির গুরুতর অভিযোগ। বিদ্ধ ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্ত। বেআইনিভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে কালীতলা আশুলিয়া থানায় লিখিত এফআইআর দায়ের করলেন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ বিশ্বাস ওরফে ববি। এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিষ্ণুপুরের জেলবন্দি তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলসহ মোট ২৩ জনের নাম রয়েছে।
স্যাটেলাইট ছবিকে হাতিয়ার করে থানায় বিজেপি
সোমবার রাতে কালীতলা আশুলিয়া থানায় গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেন গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ বিশ্বাস। শুধু মৌখিক অভিযোগই নয়, নিজের দাবির সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ওই এলাকার বেশ কিছু স্যাটেলাইট চিত্র পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি।
বিজেপি নেতার দাবি, এই স্যাটেলাইট ছবিগুলো থেকেই স্পষ্ট যে ওই অঞ্চলের ঠিক কোথায় এবং কতটা পরিমাণ মাটি কাটা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূমিরূপ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাও ওই ছবিগুলিতে ধরা পড়েছে বলে দাবি তাঁর।
১৬৩ বিঘা জমি থেকে মাটি লোপাট!
অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এলাকায় ধাপে ধাপে প্রায় ১৬৩ বিঘা জমির মাটি অবৈধভাবে কেটে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা অভিজিৎ বিশ্বাস ওরফে ববি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান তৃণমূল সাংসদকে। তিনি বলেন, “সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো এখানকার ভূমিপুত্র নন। মাটির মূল্য উনি কী বুঝবেন? ২০১৭ সাল থেকে এখানে ধাপে ধাপে মাটি কেটে চোরাপথে বিক্রি হচ্ছে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই দাপট আরও বাড়ে। আমরা তখনও অভিযোগ করেছিলাম, কিন্তু পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি। এবার আমরা নতুন করে স্যাটেলাইট ছবিসহ থানায় অভিযোগ জানালাম।” এর ফলে স্থানীয় এলাকায় মারাত্মক ভূমিক্ষয় এবং পরিবেশগত বিপর্যয় নেমে আসবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ত্রিপল চুরির পর এবার মাটি বিতর্ক
উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিজিৎ বিশ্বাসের আইনি লড়াই এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২০ সালে আমফানের সময় দুর্গতদের জন্য আসা ২৫০ কোটি টাকার ত্রাণের ত্রিপল বেআইনিভাবে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে মজুত করার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন তিনি। সেই মামলাতেও নাম জড়িয়েছিল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের।
এবার ত্রিপল বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই, খোদ সাংসদ, তাঁর পলাতক আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিষ্ণুপুরের জেলবন্দি তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটির মাটি চুরির অভিযোগে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ভোটের আবহে এই নতুন এফআইআর-কে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।
