আজকের দিনেভারত

দিল্লি অগ্নিকাণ্ড: মালিকের পর এবার গ্রেফতার রাঁধুনী, তদন্তে নতুন মোড়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়াদিল্লি:- দিল্লির মালব্য নগরে হোটেল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২১ জনের প্রাণহানির এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং প্রশাসনিক গাফিলতির এক নির্মম উদাহরণ হিসেবে উঠে আসছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে হোটেলটি প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। পাশাপাশি হোটেলের বিভিন্ন অংশে বেআইনি নির্মাণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক ত্রুটির অভিযোগও সামনে এসেছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণকে আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হলেও তদন্তকারীরা এখন বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট এবং ত্রুটিপূর্ণ ওয়্যারিংয়ের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আগুনের উৎস হিসেবে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যার ইঙ্গিত মিলেছে। একই সঙ্গে রান্নাঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এই ঘটনার জেরে হোটেলের মালিক লাবকেশ বাজাজ সহ রেস্তোরার রাধুনিকেও গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন ওই হোটেলের হিসাব রক্ষক জয় মিশ্র ১৫ বছর ধরে হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজের সঙ্গে কাজ করেন এবং তিনি এখন পলাতক। তদন্তে লাভকেশ স্বীকার করেছেন যে হোটেলের জন্য বাধ্যতামূলক ফায়ার ক্লিয়ারেন্স নেওয়া হয়নি। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, দুর্ঘটনার পরেও লাইসেন্স নবীকরণের আবেদন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। তদন্তে নতুন মোড় আসে যখন পুলিশ হোটেলের রাঁধুনিকেও গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, রাঁধুনির অবহেলার কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ইতিমধ্যে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিক ছিলেন, যাঁরা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে নাইজেরিয়া থেকে ৪ জন কিরগিজস্থান থেকে ৩ জন এবং মোজাম্বিক লাইবেরিয়া, উজবেকিস্তান এবং বাংলাদেশ সহ ইরাক থেকে কিছু ব্যক্তি সেই হোটেলে উপস্থিত ছিলেন।আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই বহুতল হোটেলটি ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকে যায়। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে জানালা থেকে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন। স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকেই গদি ও ম্যাট্রেস নিয়ে উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও পরিস্থিতি তখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে রাজধানী দিল্লির হোটেল ও বাণিজ্যিক ভবনগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবতা নিয়ে। এই ঘটনার পর দিল্লি প্রশাসন শহরজুড়ে হোটেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *