সই-বিতর্কের জের: তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত ও সন্দীপন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বিধানসভায় বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলা নিয়ে এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস নিজের দলের বিধায়কদেরই সই জাল করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে রাজ্য সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তৃণমূলেরই দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার পরেই তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ড্যামেজ কন্ট্রোল শুরু হয়েছে। দলবদলের পর থেকেই ‘বেসুরো’ থাকা ওই দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
কাদের অভিযোগে তদন্ত? খোলসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী
বিধানসভায় জমা দেওয়া রেজোলিউশনে করা বিধায়কদের সই জাল করার এই মামলায় তদন্তের সূত্রপাত কীভাবে, তা আজ স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি থানায় আনুষ্ঠানিক ডায়েরি করেন। এরপরই ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি।
তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরেও তৃণমূলের চুরির অভ্যাস যায়নি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, মোট ১৪ জন তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩ জন বিধায়ক স্বীকার করে নিয়েছেন যে ওই বিতর্কিত সইগুলো তাঁদের নয়।
তদন্তে সিআইডি-র তৎপরতা ও নোটিস
সই-কাণ্ডের তদন্তে এই মুহূর্তে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে সিআইডি। ইতিমধ্যেই নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষসহ একাধিক তৃণমূল নেতার বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এমনকি, গত শনিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে গিয়েও সিআইডি নোটিস দিয়ে এসেছে।
তৃণমূলের পাল্টা কড়া পদক্ষেপ: রাজ্য রাজনীতিতে এই সই-বিতর্ক যখন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, ঠিক তখনই কড়া পদক্ষেপ নিলো ঘাসফুল শিবির। দীর্ঘদিন ধরেই দলের লাইনের বাইরে গিয়ে ‘বেসুরো’ মন্তব্য করছিলেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে এই দুই বিধায়কের নাম সামনে আসার পরই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দু’জনকেই দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
একদিকে সিআইডি-র সাঁড়াশি অভিযান, অন্যদিকে দলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কার— সব মিলিয়ে বিধানসভার এই সই-বিতর্ক যে রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড় কোনো ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
