কেএমসি-তে ফাইল পাচার রুখতে কড়া নজরদারি! জারি নয়া নির্দেশিকা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: কলকাতা পুরসভায় নথি গায়েব এবং ফাইল পাচারের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনের নিরাপত্তা একধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হল। এখন থেকে পুরভবনের ভিতর থেকে কোনও ফাইল বা গুরুত্বপূর্ণ নথি বাইরে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে জারি করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। উপযুক্ত অনুমতি ছাড়া একটি ফাইলও দফতরের বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি কাউন্সিলরদের একাংশের তোলা গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুর-কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে সেন্ট্রাল বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর এই নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছেন বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।
কড়া নজরদারি ও অতিরিক্ত রক্ষী মোতায়েন: জারি নতুন নির্দেশিকা
পুরসভার নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, নথি সুরক্ষায় কোনওরকম আপস করা হবে না। সেই লক্ষ্যে একগুচ্ছ কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে:
-
২৪ ঘণ্টা প্রহরা: কেন্দ্রীয় ভবনের ছোট-বড় সমস্ত প্রবেশ ও প্রস্থানপথে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালাতে হবে। প্রতিটি গেট বা ফটকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক: কোনও আধিকারিক বা সাধারণ কর্মী উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের লিখিত নির্দেশ কিংবা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনও ফাইল ভবনের বাইরে নিয়ে যেতে পারবেন না।
নেপথ্যে বস্তাবন্দি ফাইল বিতর্ক
এই কড়া পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে কয়েক দিন আগের একটি বিতর্কিত ঘটনা। ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক অভিযোগ করেছিলেন, পুরভবনের একাধিক জায়গায় বস্তাবন্দি অবস্থায় প্রচুর ফাইল ফেলে রাখা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি পুরসচিব কিশোরকুমার বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে স্বচক্ষে গোটা পুরভবন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় সত্যিই বেশ কিছু জায়গায় বস্তায় ভরা নথিপত্র পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই ফাইলগুলি কোন বিভাগের, কেন সেগুলিকে বস্তায় পোরা হয়েছে এবং কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা চলছিল— তা নিয়ে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে কড়া প্রশ্ন তোলেন ওই কাউন্সিলর।
‘দুর্নীতি আড়ালের চেষ্টা’, সরব সজল-মিনাদেবী
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে পুরভবনে। বিজেপি বিধায়ক তথা ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সজল ঘোষ এবং প্রবীণ কাউন্সিলর মিনাদেবী পুরোহিত সরাসরি আঙুল তুলেছেন বিদায়ী শাসকদলের দিকে। তাঁদের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে পুরবোর্ডের আমলে যে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে, তার প্রমাণ লোপাট করতেই এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ও ফাইল সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। অবশ্য এই অভিযোগের সপক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও অকাট্য বা সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি।
পুরসচিবের পর্যালোচনার পরই নির্দেশিকা
বস্তাবন্দি ফাইল উদ্ধারের পরেই পুরসচিব কিশোরকুমার বিশ্বাস আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তিনি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পুর-কমিশনারের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করবেন। পুরসভা সূত্রের দাবি, সেই উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পরই তড়িঘড়ি নিরাপত্তা জোরদার করার এই নয়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যদিও এই স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে পুর প্রশাসনের কোনও শীর্ষকর্তা বা আধিকারিক এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি।
ফাইল কাণ্ডের গতিপ্রকৃতি:
- অভিযোগ: পুরভবনে বস্তাবন্দি অবস্থায় প্রচুর ফাইল উদ্ধারের অভিযোগ সজল ঘোষ ও সন্তোষ পাঠকদের।
- পরিদর্শন: অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পুরসচিব কিশোরকুমার বিশ্বাসের যৌথ পরিদর্শন।
- অ্যাকশন: পুর-কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের তরফে সেন্ট্রাল বিল্ডিং সিলিং ও ফাইল মুভমেন্টে কড়া বিধিনিষেধ।
