সীমান্তের ১৫ কিমির মধ্যে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কড়া নির্দেশ অমিত শাহের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: -আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সমস্ত বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার ব্যাঙ্কে আর্থিক লেনদেন এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর কড়া নজরদারির কথাও বলেছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় আন্তঃসীমা চোরাচালান রুখতে এবং ভুয়ো নথিপত্র শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অমিত শাহ। বিজেপি সরকারের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’ উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ইতিমধ্যেই কলকাতা সহ বাংলার একাধিক জায়গায় ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ শুরু হয়েছে। তার মাঝেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নির্দেশ সীমান্ত এলাকায় নতুন করে তৎপরতা বাড়িয়েছে। সীমান্তের ব্যাঙ্কগুলিতে অস্বাভাবিক লেনদেন এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপের ওপর বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলার বিভিন্ন জেলায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি নিয়ে জটিলতা চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তিতে অনেক জায়গায় জমি অধিগ্রহণ আটকে ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নবান্ন জেলা প্রশাসনকে দ্রুত জমি চিহ্নিত করে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়। গত সপ্তাহে নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিএসএফের হাতে মোট ১৪২.৭৯ একর জমি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জমি বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণ এবং সীমান্তের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যবহার হবে। জেলা ভিত্তিক হিসেবে কোচবিহারে ২২.৯২৫ একর, জলপাইগুড়িতে ৩৫.১৬৫ একর, দার্জিলিংয়ে ৮.৮১৫ একর, উত্তর দিনাজপুরে ২.৮৪ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২০.১৭০১ একর, মালদহে ১০.৯০ একর, মুর্শিদাবাদে ৩৮.৮০৫ একর, নদীয়ায় ০.৫৫ একর এবং উত্তর ২৪ পরগণায় ২.৬ একর জমি বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের কড়া নির্দেশ এবং রাজ্যের জমি হস্তান্তরের পদক্ষেপ একসঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করল। অবৈধ নির্মাণ ভাঙা, আর্থিক লেনদেনে নজরদারি এবং বিএসএফের পরিকাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার হবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
