নিষিদ্ধ লোটো খেলা, জুয়ার আড্ডাঃ শুভেন্দু অধিকারী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বারাসাত: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর এবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রশাসনিক রাশ শক্ত করার পাশাপাশি নিচুতলায় জনসংযোগ বাড়াতে কোমর বেঁধে নামল নতুন শাসক শিবির। একদিকে জেলা পরিষদে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ, অন্যদিকে একগুচ্ছ সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে আমজনতার দুয়ারে পৌঁছানো— এই দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠকের পর জেলা জুড়ে এই নতুন তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
দুর্নীতি ও জুয়ার আড্ডায় কড়া ‘বুলডোজার’
কল্যাণীর বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদে বিগত দিনে হওয়া বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এবার গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় বেআইনি লোটো খেলা এবং জুয়ার আড্ডা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পুলিশ ও প্রশাসনকে জিরো-টলারেন্স নীতি নেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যুবসমাজকে এই সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতেই এই কড়াকড়ি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বারাকপুরের চটকল সঙ্কট ও শিল্পে নতুন দিশা
মঙ্গলবারের বৈঠকে জেলার সামগ্রিক শিল্প পরিস্থিতি এবং নতুন বিনিয়োগ টানার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনকে এই নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
চটকল সঙ্কট মোচন: পাটের অভাবে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের চটকলগুলিতে যে তীব্র সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে।
-
বাংলাদেশ ল্যান্ড পোর্ট: সঙ্কট কাটাতে বাংলাদেশ ল্যান্ড পোর্ট (স্থলবন্দর) পুনরায় সক্রিয়ভাবে চালু করে সেখান থেকে সরাসরি পাট আমদানির বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে সদর্থক আলোচনা হয়েছে। এর ফলে চটকল শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হতে পারে।
জুনেই মেগা জনসংযোগ: ১৫ থেকে ১৭ জুন ‘জনকল্যাণ শিবির’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা যেন সরাসরি নিচুতলার মানুষের কাছে পৌঁছায়। এই লক্ষ্যেই আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন জেলা জুড়ে ব্লক, পুরসভা এবং কর্পোরেশন এলাকাগুলিতে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
শিবিরের রূপরেখা: বিডিও , পুরসভার সিও এবং কর্পোরেশন কমিশনারদের নেতৃত্বে এই মেগা শিবিরগুলি পরিচালিত হবে। সরকারের সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের তথ্য ও সুবিধা সরাসরি মানুষের হাতে তুলে দিতে এই শিবিরে স্থানীয় বিধায়ক এবং সাংসদদেরও উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জুন মাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি
জনসংযোগের অংশ হিসেবে আগামী মাসেই আরও দুটি বড় ইভেন্টের প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন:
ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলাকে পাখির চোখ করে নতুন সরকারের এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
