রণবীরকে বয়কটের ডাক: ‘ডন ৩’ বিতর্কে অনড় ফেডারেশন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মুম্বই: ফারহান আখতারের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘ডন ৩’ থেকে অভিনেতা রণবীর সিং-এর আচমকা সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে সরগরম বলিউড। সৃজনশীল মতপার্থক্যের জেরে ছবি ছাড়ার পর, এবার খোদ অভিনেতার বিরুদ্ধেই ‘নন-কোঅপারেশন’ বা বয়কটের ডাক দিয়েছে ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ় । সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা অশোক পণ্ডিত স্পষ্ট জানিয়েছেন, একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিনেতার পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা মেলেনি।
রণবীরের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে প্রযোজকদের প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি। আর এর পরেই ক্ষুব্ধ ফেডারেশন অভিনেতাকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করার পথে হাঁটে।
৩ বার ডেকেও মেলেনি সাড়া: সরব অশোক পণ্ডিত
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অশোক পণ্ডিত অভিযোগ করেন, “ফেডারেশনের সদস্যরা রণবীরের সঙ্গে তিন-তিনবার বৈঠক করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অভিনেতা কোনো সাড়া দেননি।”
তিনি আরও জানান, সংগঠন যখন বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন রণবীর একটি মেইলের মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান। সেখানে অভিনেতা সংক্ষেপে লেখেন, “এটি আমার এক্তিয়ারে পড়ে না।” এই জবাবে অসন্তুষ্ট ফেডারেশন জানিয়েছে, রণবীর যদি নীরব থাকতে চান, তবে সংগঠন অন্য সিনে সংগঠন ও প্রযোজকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
কেন মাঝপথে ‘ডন ৩’ ছাড়লেন রণবীর?
রণবীরের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে চিত্রনাট্য ও শুটিংয়ের সময়সীমা নিয়ে তীব্র মতবিরোধ:
চিত্রনাট্যে আপত্তি: রণবীর ছবিতে আরও বেশি অ্যাকশন, হিংসাত্মক দৃশ্য এবং কড়া সংলাপ চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিচালক ফারহান আখতার ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের দুটি ছবির মেজাজ বজায় রেখেই স্ক্রিপ্ট সাজাতে চেয়েছিলেন।
শুটিংয়ে বিলম্ব: নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও শুটিং শুরু করতে পারেননি ফারহান। দিনের পর দিন এই বিলম্বের কারণে বিরক্ত হয়েই শেষ পর্যন্ত প্রজেক্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন অভিনেতা।
সিনেমা কি কেবল চুক্তি, নাকি এক বিশাল দায়বদ্ধতা?
এই বিতর্ক বলিউডের অন্দরের এক জটিল সমীকরণকে সামনে এনে দিয়েছে। একদিকে যেমন সৃজনশীল স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হলে একজন অভিনেতার ছবি ছাড়ার অধিকার রয়েছে, অন্যদিকে তেমনই একটি মেগা বাজেটের ছবির ওপর নির্ভর করে থাকে শত শত টেকনিশিয়ান, দিনমজুর ও জুনিয়র শিল্পীদের রুটি-রুজি। সুপারস্টারের এক সিদ্ধান্তে শুটিং ভেস্তে গেলে ক্ষতির বোঝা বইতে হয় পুরো ইউনিটকে।
ফেডারেশনের বার্তা:
“রণবীর যদি প্রযোজকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে নিতেন, তবে ভালো হতো। এই জটিলতা শেষ হওয়া দরকার, কারণ অভিনেতাকেও তো আগামী দিনে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে হবে!”
সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে জোর তরজা চলছে। অনুরাগীদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক সাফল্যের পর বলিউডের পুরোনো গোষ্ঠীর রাজনীতির শিকার হচ্ছেন রণবীর। অন্য অংশের মতে, কোটি কোটি টাকার ক্ষতির পর ফেডারেশনের এই কড়া পদক্ষেপ জরুরি ছিল। রণবীরের টিমের এই রহস্যময় নীরবতা আগামী দিনে তাঁর ক্যারিয়ারে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
