দহনজ্বালা থেকে অবশেষে মুক্তি: দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস, সমুদ্রে নিষেধাজ্ঞা জারি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: জ্যৈষ্ঠের প্রবল খরতাপে পুড়ছে শ্যামল বাংলা। তীব্র গরম আর শুষ্ক আবহাওয়ায় নাজেহাল বঙ্গবাসী। তবে এই হাঁসফাঁস পরিস্থিতি থেকে অবশেষে মিলতে চলেছে সাময়িক স্বস্তি। আজ, বুধবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। ধেয়ে আসতে পারে কালবৈশাখীও, যার জেরে আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা এক ধাক্কায় ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।
কেন এই আকস্মিক আবহাওয়া বদল?
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, দক্ষিণ বিহারে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এই ঘূর্ণাবর্তটি ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার ওপর দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবেই বঙ্গে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কোথায় কেমন পরিস্থিতি?
-
কালবৈশাখীর সতর্কতা: আগামী তিন দিন দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আজ (বুধবার) বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হাওড়া জেলায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
-
বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি: বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি চলবে। শুক্রবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমবে। তবে আগামী শনিবার (৩০ মে) আবারও বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
-
পশ্চিমাঞ্চলে দহনজ্বালা: আজ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে।
মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা: আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর ওড়িশা উপকূলে সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল থাকবে। সমুদ্রপৃষ্ঠে প্রায় ৬০ কিমি বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও ঝড়বৃষ্টির দাপট চলবে। দার্জিলিং থেকে মালদহ— সব জেলাতেই ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
-
ভারী বৃষ্টি: আগামী ২৪ ঘণ্টায় মূলত জলপাইগুড়ি জেলার কিছু অংশে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
-
উন্নতি: বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তেমন নেই। শনি ও রবিবার থেকে ঝড়বৃষ্টির দাপট আরও কমবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার— এই পাঁচ জেলায় তখন কেবল হালকা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।
