১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, বাংলায় বিনিয়োগের বার্তা দিলেন রুবিও?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। ১৪ বছর পর হিলারি ক্লিনটনের পর ফের কোনও মার্কিন বিদেশসচিবের কলকাতা সফর। শনিবার সকালে সস্ত্রীক কলকাতায় পৌঁছেই মাদার হাউজ, চিলড্রেনস হোম ঘুরে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে যান তিনি। দুপুরে দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক। বাংলায় পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জমানায় এই সফর ঘিরে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
শনিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে সোজা চলে যান তালতলার মাদার হাউজে। প্রায় দু’ঘণ্টা সেখানে কাটিয়ে চিলড্রেনস হোমেও যান রুবিও দম্পতি। এরপর তাঁদের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পরিদর্শনের কথা ছিল। কলকাতা পর্ব সেরে দুপুরেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর সোশাল মিডিয়ায় রুবিওর সফরের কথা জানান। তিনি লেখেন, “মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও কলকাতায় পৌঁছেছেন। এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর। শনিবারই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা হবে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, কোয়াড-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।” সূত্রের খবর, কলকাতা ও দিল্লি ছাড়াও আগ্রা, জয়পুরেও যাওয়ার কথা মার্কিন বিদেশসচিবের।উল্লেখ্য, ২০১২ সালের মে মাসে শেষবার কলকাতায় এসেছিলেন তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিনটন। ১৪ বছর পর ফের কোনও মার্কিন বিদেশসচিবের কলকাতা সফর স্বাভাবিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটভূমিতে এই সফর আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের ঝড়ে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ করছেন। সম্প্রতি দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করে শিল্পবার্তাও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদিও বারবার বিদেশি বিনিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছেন। এই আবহেই মার্কিন বিদেশসচিবের কলকাতা সফর। ফলে রাজ্যে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি লালমণিরহাটে বিমান ঘাঁটিতে চিনের বিনিয়োগ নিয়ে চাপানউতোরের মাঝে রুবিওর সফরকে বেজিংয়ের প্রতি বার্তা হিসেবেও দেখছে কূটনৈতিক মহল।
বাংলায় সরকার বদলের পর মার্কিন বিদেশসচিবের প্রথম কলকাতা সফর নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শিল্প, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও কোয়াড ইস্যুতে মোদি-রুবিও বৈঠক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ডবল ইঞ্জিন সরকারের বাংলায় বিদেশি বিনিয়োগের রাস্তা এই সফর খুলে দেয় কিনা সেটাই এখন দেখার। চিনকে কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলার শিল্প-মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত রেখে গেল মার্কো রুবিওর এই সফর।
