বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের জট কাটাতে তৎপর রেল ও পুরসভা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার আসতেই দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে থমকে থাকা বরানগর থেকে ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্প নিয়ে নতুন করে নড়াচড়া শুরু হলো। উত্তর শহরতলির কোটি কোটি মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে গতি আনতে রেল ও প্রশাসন যৌথভাবে উদ্যোগী হয়েছে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত এই মেট্রো লাইনে কামারহাটি, সোদপুর, খড়দা, টিটাগড়-সহ মোট ১০টি স্টেশন থাকার কথা রয়েছে। তবে ২০১০ সালে অনুমোদিত ২০৬৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির মূল বাধা ছিল শতাব্দী প্রাচীন টালা ট্যাঙ্কের জলের পাইপলাইন। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সেই জটিলতা কাটার ইঙ্গিত মিলছে।
প্রজেক্ট রেডি, নজরে টালা ট্যাঙ্কের পাইপলাইন
কলকাতা মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এসএস কান্নান এই বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, “প্রজেক্ট রেডি হয়ে পড়ে আছে। টালা ট্যাঙ্কের পাইপলাইন কীভাবে নিরাপদ রেখে কাজ করা যায়, তা খতিয়ে দেখছে আরভিএনএল (RVNL)। কলকাতা পুরসভার সহযোগিতায় দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।”
এক নজরে প্রস্তাবিত রুট ও স্টেশনসমূহ:
১৩ কিলোমিটারের এই রুটে উত্তর শহরতলির সংযোগকারী প্রধান ১০টি স্টেশন হলো:
-
কামারহাটি
-
আগরপাড়া
-
সোদপুর
-
পানিহাটি
-
সুভাষনগর
-
খড়দা
-
টাটা গেট
-
টিটাগড়
-
তালপুকুর
-
ব্যারাকপুর
নজর খোদ প্রধানমন্ত্রীর, বড় চ্যালেঞ্জ উন্নত প্রযুক্তি
প্রকল্পটির গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও স্বয়ং এর অগ্রগতি নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান রাজ্যের মুখ্যসচিবকে এই বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
তবে কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখনও টালা-পলতার ৬টি মূল জলের পাইপলাইন। পুরসভার আধিকারিকদের মতে, কলকাতার পানীয় জল সরবরাহের এই লাইফলাইনগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মেট্রোর স্তম্ভ বা খননকার্য চালানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল। ফলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যেই এই পাইপলাইন সংরক্ষণের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে আরভিএনএল।
