এবার টার্গেট অভিষেকের ‘শান্তিনিকেতন’ ও কালীঘাটের বাড়ি! বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে পুরসভার ৭ দিনের চরম হুঁশিয়ারি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ক্ষমতায় বসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন— বাংলায় কোনো বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। সেই কথামতো রাজ্যের একাধিক প্রান্তে ইতিমধ্যেই চলেছে প্রশাসনের ‘বুলডোজার’। কিন্তু এবার যে পদক্ষেপটি নেওয়া হলো, তা রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি বাড়ি— হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটের ‘শান্তিনিকেতন’ এবং কালীঘাট রোডের বাড়িতে পৌঁছে গেল পুরসভার নোটিস। ইতিমধ্যেই দুটি বাড়ির দেওয়ালে নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
রাডারে শান্তিনিকেতন ও লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসের সম্পত্তি
হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে অবস্থিত পেল্লায় প্রাসাদ ‘শান্তিনিকেতন’। এই বাড়ির সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম, যেখানে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকেন। অন্যদিকে, ১২১ কালীঘাট রোডে রয়েছে তাঁর আরেকটি বাড়ি, যা আদতে অভিষেকের মায়ের নামে হলেও সেটি ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সম্পত্তি হিসেবে দেখানো রয়েছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, সম্প্রতি এই দুটি সম্পত্তিরই নকশা ও খতিয়ান চাওয়া হয়েছিল। নোটিস পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সঠিক নিয়ম মেনে পুরসভার অনুমতি নিয়েই কি এই বহুতলগুলি তৈরি হয়েছে? নাকি অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে?
৭ দিনের চরম সময়সীমা, অমান্য করলেই চলবে বুলডোজার!
পুরসভার নোটিসে অত্যন্ত কড়া ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, যদি এই দুটি নির্মাণে কোনো রকম কারচুপি বা বেআইনি অংশ থেকে থাকে, তবে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তা নিজেদের উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে হবে। অন্যথায়, নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পর পুরসভা নিজেই সেই বেআইনি অংশ গুঁড়িয়ে দেবে। অর্থাৎ, আইন অমান্য করলে অভিষেকের বাড়ির দেওয়ালে বুলডোজার চলা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
“আমি কিছুই জানি না”, প্রতিক্রিয়া ফিরহাদের; কটাক্ষ বিজেপির
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুরসভার নোটিস পাঠানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যেতেই মুখ খুলেছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তবে তাঁর বয়ানে স্পষ্ট অস্বস্তি। ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন,”আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। নোটিস পাঠানো নিয়ে আমার সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ বা আলোচনা করা হয়নি।” মেয়রের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলের প্রবীণ বিধায়ক তাপস রায় বলেন,”আসলে ফিরহাদ হাকিমকে এখন আর কেউ মানছে না, কেউ গুরুত্বও দিচ্ছে না। তাই উনিও কারও সঙ্গে কথা বলছেন না, কিছু জানতেও পারছেন না। তবে যদি আইন মেনে নোটিস পাঠানো হয়ে থাকে, তবে একেবারে সঠিক কাজ করা হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কোপ এবার খোদ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরে ঢুকে পড়ায়, আগামী দিনে কলকাতার পুর-রাজনীতি তথা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
