আজকের দিনেতিলোত্তমা

চড়িয়ালের ১৫ লকগেট বিকল, বর্ষায় ডুববে বেহালা-জোকা?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা : – বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে চড়িয়াল খালের লকগেট। অর্ধেক ভাঙা, দরজা বিকল—১৫টি লকগেটের এমন জীর্ণ দশায় এ বছরও বর্ষায় বেহালা ও জোকায় জলযন্ত্রণার আশঙ্কা করছেন কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের আধিকারিকরা।

প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ চড়িয়াল খালের উপরেই নির্ভর করে বেহালা, জোকা ও বন্দর এলাকার ২৭টি ওয়ার্ডের নিকাশি। বজবজের চড়িয়াল মোড় থেকে পুজালি হয়ে হুগলি নদীতে মেশা এই গুরুত্বপূর্ণ খালের লকগেটগুলিই কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য। কোনওটার দরজা ঠিকঠাক বন্ধ হয় না, কোনওটা অর্ধেক ভাঙা।প্রতি বছর প্রাক-বর্ষা প্রস্তুতি বৈঠকে সেচ দপ্তরকে চড়িয়াল খাল নিয়ে সতর্ক করে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু নিকাশি বিভাগের আধিকারিকদের কথায়, ‘বর্ষা আসে, বর্ষা যায়, বদলায় না চড়িয়ালের পরিস্থিতি।’ বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় খালটি নাব্যতা হারিয়েছে। সমস্যার মূলে জোয়ার-ভাটার খেলা। খালটি দীর্ঘ হওয়ায় ভাটার সময়ে বেহালা, জোকার নিকাশির জল পুরোপুরি বের হওয়ার আগেই জোয়ার চলে আসে। ফলে নিকাশির জল উল্টো দিকে ফিরতে শুরু করে। বর্ষায় এই কারণেই প্লাবিত হয় বেহালা, জোকার বড় অংশ।

সমাধানের পথও বাতলেছেন নিকাশি বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকরা। প্রথমত, চড়িয়ালের প্রতিটি লকগেট নতুন করে তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বেহালা ও জোকার মাঝে একটি বুস্টার পাম্পিং স্টেশন স্থাপন জরুরি। লকগেট সচল হলে জোয়ারের সময় গেট বন্ধ রেখে ভাটার জল আটকে রাখা যাবে। ভাটা শুরু হলে গেট খুলে দিলে জল সহজে বেরোবে। আর পাম্পিং স্টেশন থাকলে ভাটার জল দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব। এই দুটি কাজ হলেই বদলাতে পারে বেহালা-জোকার বর্ষার জলছবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *