গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বিধানসভায় ঋতব্রত, ৫০ বিধায়কের সইসহ চিঠি জমার জল্পনা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে। মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতে বিধানসভায় পৌঁছেছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শোনা যাচ্ছে, ৫০ জন বিধায়কের সই সম্বলিত একটি চিঠি তিনি স্পিকার বা সচিবের দপ্তরে জমা দিতে চলেছেন, যেখানে ‘নতুন তৃণমূল’-এর ভিত্তিপ্রস্তরের কথা বলা হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে মহারাষ্ট্রের একনাথ শিণ্ডে বা অজিত পওয়ার মডেল অনুসরণ করে তৃণমূলে আড়াআড়ি ভাঙনের জল্পনা চলছে। সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বিধানসভায় যান। সূত্রের দাবি, ওই নথিতে ৫০ জন বিধায়কের সই রয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের আসল দাবিদার তাঁরাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন। যদিও মঙ্গলবার স্পিকার বিধানসভায় অনুপস্থিত ছিলেন। শোনা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁকে আচমকা দিল্লি যেতে হয়েছে। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ঋতব্রত চিঠিটি বিধানসভার সচিবের কাছে জমা দিতে পারেন বলে খবর।এই জল্পনা আরও উসকে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হলো। বিধানসভার স্পিকারের কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত। খেলা হবে।’তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ফাটলের ইঙ্গিত মিলেছিল দিন দুই আগে। নেত্রীর বাড়িতে ডাকা বিধায়কদের বৈঠকে ৮০ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জন হাজির হন। অনুপস্থিত ৬০ বিধায়কের বড় অংশই ঋতব্রতর নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারেন বলে জল্পনা। ঠিক যে মডেলে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে শিবসেনার প্রতীক হাতছাড়া হয়েছিল, সেই পথেই তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ছক কষা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।
এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে এ নিয়ে কেউই মুখ খুলছেন না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমা দেওয়া নথিতে ঠিক কী আছে, ৫০ জন বিধায়কের সই সত্যিই আছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মঙ্গলবার বিধানসভায় ঋতব্রতর উপস্থিতি এবং মন্ত্রী তাপস রায়ের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নতুন করে রাস্তায় নামার চেষ্টায়, তখন দলের অন্দরের এই জল্পনা তৃণমূল শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। আগামী দিনে এই ঘটনা কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
