১,০০০ কোটির মেগা প্রজেক্ট! জয়পুরে তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের রেল হাব!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, জয়পুর: রাজস্থানের উত্তর জয়পুরের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বিশাল পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জাদোতা এলাকায় অবস্থিত ‘ভাট্টো কি গলি’ রেলওয়ে স্টেশনকে একটি বিশাল রেল হাব বা মেগা কোচিং টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে উত্তর-পশ্চিম রেলওয়ের জয়পুর ডিভিশন। এই প্রকল্পের জন্য ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের একটি বিশদ প্রস্তাব তৈরি করে রেল বোর্ডের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে পরিকল্পনাটি প্রস্তাবিত স্তরে থাকলেও, সবুজ সংকেত মিললেই দ্রুত এর কাজ শুরু হবে। এই টার্মিনালটি তৈরি হলে জয়পুর জংশন রেলওয়ে স্টেশনের ওপর থেকে ট্রেনের চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন রেল আধিকারিকরা।
কী কী আধুনিক সুবিধা থাকবে এই মেগা টার্মিনালে?
প্রস্তাবিত মেগা কোচিং টার্মিনালটিকে বিশ্বমানের এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল আকর্ষণগুলি হলো:
-
বিশাল পরিকাঠামো: এই স্টেশনে মোট ১০টি প্ল্যাটফর্ম, ৭টি স্টেবিলিং লাইন, ৪টি ইন্সপেকশন লাইন, হেভি ওয়াশিং লাইন এবং পিট লাইনের নির্মাণ করা হবে। এর ফলে ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
-
অটোমেটেড ক্লিনিং সিস্টেম: ট্রেন এবং প্ল্যাটফর্মের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ক্লিনিং সিস্টেম বা ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
-
গ্রিন বিল্ডিং ও সৌর বিদ্যুৎ: পরিবেশের কথা মাথায় রেখে পুরো স্টেশন ভবনটিকে ‘গ্রিন বিল্ডিং’ মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হবে। শক্তির চাহিদা মেটাতে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
-
যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য: যাত্রীদের জন্য থাকবে ডিজিটাল ইনফরমেশন সিস্টেম, আধুনিক ওয়েটিং রুম বা প্রতীক্ষালয়, উন্নত স্যানিটেশন এবং হাই-টেক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
১০০টিরও বেশি ট্রেন ও বন্দে ভারতের সম্ভাবনা
উত্তর-পশ্চিম রেলওয়ের আধিকারিকদের মতে, এই টার্মিনালটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়ে গেলে এখান থেকে দৈনিক ১০০টিরও বেশি ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এই স্টেশন থেকে ‘বন্দে ভারত’এবং ‘অমৃত ভারত’-এর মতো দেশের সবচেয়ে আধুনিক সেমি-হাইস্পিড ট্রেনগুলি চালানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে।
হাজার হাজার কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক জোয়ার
প্রকল্পটি নিয়ে উত্তর-পশ্চিম রেলওয়ের জয়পুর ডিভিশনের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক অমিত সুদর্শন জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি তৈরি করে বিভাগে পাঠানো হয়েছে এবং এখন শুধু অনুমোদনের অপেক্ষা। ছাড়পত্র মিললেই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে।
রেলওয়ের অনুমান, এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলাকালীন স্থানীয় স্তরে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে। টার্মিনালটি চালু হওয়ার পর এর রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক পরিষেবায় হাজার হাজার মানুষ কাজ পাবেন। এর ফলে আশেপাশের অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতি এক ধাক্কায় অনেকটাই এগিয়ে যাবে।
