আজকের দিনেভারত

দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ২০ জনের মৃত্যু! শোক প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার হৌজ রানি ফের একবার এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো। বুধবার ৩ জুন সকালে সেখানকার ফ্লোরিস স্টে’ নামকএকটি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বিধ্বংসী আগুন লাগে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দমবন্ধ হয়ে ও আগুনে পুড়ে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও বহু মানুষ গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

যেভাবে ছড়ালো আগুন ও উদ্ধারকার্য

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ৯:৪৫ নাগাদ তারা প্রথম আগুন লাগার খবর পান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তড়িঘড়ি ২টি ওয়াটার টেন্ডার, ২টি ওয়াটার বাউজার এবং ১টি কুইক রেসপন্স টিম সহ কমপক্ষে ১০টি দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

আগুন লাগার সময় বহুতলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ছিল শিউরে ওঠার মতো:

  • হুড়োহুড়ি ও আতঙ্ক: আগুন লাগার সাথে সাথেই পুরো ভবন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং ভেতরে থাকা মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়।

  • জানলা দিয়ে ঝাঁপ: প্রাণ বাঁচাতে অনেক মানুষ ভবনের জানলা এবং ওপরের তলা থেকে নিচে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন।

  • রেস্কিউ অপারেশন: ঘন ধোঁয়া এবং প্রবল তাপের মধ্যেই দমকলকর্মীরা সাহসিকতার সাথে কাজ করে বেসমেন্ট ও ওপরের তলা থেকে প্রায় ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন এবং ‘ক্যাটস’ অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্যে হাসপাতালে পাঠান।

প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, নিচতলায় থাকা রেস্তোরাঁ থেকেই শর্ট সার্কিটের কারণে এই আগুনের সূত্রপাত। তবে সঠিক কারণ জানতে পুলিশ ও ডিডিএমএ কারিগরি তদন্ত শুরু করেছে।

পাশে থাকার বার্তা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “মালভিয়া নগরের এই ভয়াবহ আগুনে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এবং মানুষের মৃত্যুতে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। খবর পাওয়া মাত্রই দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, ডিডিএমএ এবং অ্যাম্বুলেন্স সংস্থাকে সক্রিয় করা হয়েছিল। দিল্লি সরকার পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। এই বিপদের দিনে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে আছি এবং তাদের সবরকম চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সাহায্য করতে আমরা দায়বদ্ধ।”

কেন্দ্র সরকারের সাহায্য ও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরও । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল’ থেকে আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেছেন। নিহতদের পরিবারকে মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং চিকিৎসাধীন গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

ফায়ার সেফটি নিয়ে প্রশ্ন: এই ঘটনার পর দিল্লির বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই এই এলাকায় বহু হোটেল-রেস্তোরাঁ চালানো হচ্ছিল। পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

দিল্লির মালভিয়া নগরের হৌজ রানি এলাকার হোটেল ফ্লোরিস স্টে’ -র ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে উঠে এলো এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বেদনাদায়ক তথ্য। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই আফ্রিকান বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক। তাঁরা ওই হোটেলের ওপরের তলায় তৈরি একটি পেয়িং গেস্ট  আবাসে থাকতেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমান, বহুতল ভবনটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ গাদাগাদি করে থাকতেন এবং সেখানে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার চরম গাফিলতি ছিল।

“রাস্তায় তোষক পেতে বাঁচানোর চেষ্টা”: শিউরে ওঠা বিবরণ প্রত্যক্ষদর্শীর

হৌজ রানি গ্রামের বাসিন্দা ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াসিম রাজ জানান, সরকারি রিপোর্টের চেয়েও কিছুটা আগে, অর্থাৎ সকাল প্রায় ৮:৫০ নাগাদ আগুন লেগেছিল। ঘটনার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে ওয়াসিম বলেন, “আগুন লাগার খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। দেখি পুরো ভবনটি দাউদাউ করে জ্বলছে। ভেতরে থাকা মানুষজন প্রাণ বাঁচাতে ওপর থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ওই ভবনের কোণেই একটি তোষক-মেট্রেসের দোকান ছিল। আমরা তড়িঘড়ি দোকান থেকে প্রচুর তোষক বের করে রাস্তার ওপর বিছিয়ে দিই, যাতে ওপর থেকে কেউ লাফালে শক্ত রাস্তায় চোট না পান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দমকল বাহিনী এসে উদ্ধারকাজ শুরু করে।”

“মন অত্যন্ত ব্যথিত”, শোকবার্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “দিল্লির মালভিয়া নগরের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মন অত্যন্ত ব্যথিত। স্থানীয় প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় যাঁরা আপনজনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। ঈশ্বর শোকাহত পরিবারগুলোকে এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দিন। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমি তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের শোকপ্রকাশ

এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ তিনি লিখেছেন, “দিল্লিতে এক দুর্ভাগ্যজনক ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিदरক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার সমবেদনা। প্রভু শ্রীরামের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন প্রয়াত আত্মাগুলোকে শান্তি দেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থ করে তোলেন।”

ঘটনার আসল কারণ উদঘাটন করতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *