ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকে বসার সম্ভাবনা,ইঙ্গিত ট্রাম্পের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা : – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম দফার শান্তি বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে। ইরানের সব বন্দরের দিকে ক্রমশ এগোচ্ছে মার্কিন সেনা, ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। এই আবহে তেহরানের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে ফের একবার শান্তি বৈঠকে বসতে পারে আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এমনটাই জানা গিয়েছে। তবে কবে, কখন, কোথায় এই বৈঠক হবে তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।
এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বৈঠক নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছে দুই পক্ষই। এ বারের বৈঠক ইসলামাবাদে না-ও হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক এর তারিখ এবং স্থান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টাই এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে তুরস্ক বলে জানা গিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখন অত্যন্ত সতর্ক। একই সঙ্গে কূটনৈতিক পথে সমাধান সম্ভব বলে তারা আশাবাদীও। পরিস্থিতি অনুকূল হলে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে, যাতে আলোচনা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এই বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্তা ওই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। চুক্তির কথাবার্তা চলছে।’ শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরে ইরান আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বলে দাবি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ডোনাল্ড ট্রাম্পও তিনি বলেছেন, ‘ইরান চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।’ তবে ফের শান্তি বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে মুখ খোলেননি ট্রাম্প। এই নিয়ে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বিষয়টা এড়িয়ে যান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন ‘এটা ইরানই বলতে পারবে, বল এখন তাদের কোর্টে।’ আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, তারা কোনও দিন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, এই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে ইরানকে।
বিগত ১১ ই এপ্রিল ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ভ্যান্স, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। কিন্তু আলোচনায় কোনও রফাসূত্র বের হয়নি। বৈঠক নিষ্ফলাই শেষ হয়েছে। আমেরিকা দাবি করেছিল, তাদের তরফে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইরান তাদের কোনও শর্ত মানতেই রাজি হয়নি। উল্টো দিকে হরমুজ় প্রণালীতে তারা আমেরিকার দাদাগিরি মানবে না বলে দাবি করেছে ইরানও।
