আজকের দিনেতিলোত্তমা

পার্ক সার্কাসে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা, রণক্ষেত্রের ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: রবিবার দুপুরের রণক্ষেত্রের পর সোমবার সকাল থেকেই থমথমে পার্ক সার্কাস চত্বর। নতুন করে যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা বা অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য এলাকা জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা বাড়িয়েছে কলকাতা পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী, নামানো হয়েছে কমব্যাট ফোর্স ও র‍্যাফ । প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামানও। তবে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সোমবার সকাল থেকে এলাকার দোকানপাট খুলেছে এবং যান চলাচল আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে।

​রণক্ষেত্র পার্ক সার্কাস: কী ঘটেছিল রবিবার?
​বুলডোজার অ্যাকশন-সহ একাধিক ইস্যুর বিরোধিতা করে রবিবার দুপুরে একদল বিক্ষোভকারী পার্ক সার্কাস মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। অভিযোগ, সেখানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র বচসা শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
​বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ। এমনকী, সেখানে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বাসেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে উঠলে পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। দুপক্ষের খণ্ডযুদ্ধে অন্তত ৩ জন পুলিশকর্মী জখম হন। ঘটনার জেরে রবিবার দুপুরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পার্ক সার্কাস সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ চত্বর।
​ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চলছে শনাক্তকরণ

​রবিবার দুপুরের ওই ঘটনার পর থেকেই রাতেই এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। সোমবার সকাল পর্যন্ত এই হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
​পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনার সময়কার ভিডিও খতিয়ে দেখে অন্যান্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনার পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্রী বা উসকানি রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
​”কাউকে রেয়াত করা হবে না”, কড়া হুঁশিয়ারি মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের
​পার্ক সার্কাসের এই হিংসাত্মক ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সোমবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
​মন্ত্রী বলেন: ​”যে বা যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। উপযুক্ত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসলে ইচ্ছা করেই এলাকায় অশান্তি তৈরি করার জন্য বিক্ষোভকারীদের পিছন থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।”
​আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, উত্তেজনা এড়াতে পার্ক সার্কাসের মোড়ে মোড়ে পুলিশি টহল জারি রয়েছে। লালবাজারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *