আজকের দিনেখেলা

বিশ্বকাপে বজ্র-আতঙ্ক: ম্যাচ থামলে ফের শুরু কখন?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার আলোচনায় মাঠের বাইরের এক নিয়ম। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বজ্রপাত হলেই ম্যাচ থামিয়ে দেওয়া হবে। সমস্যা হল, একবার খেলা বন্ধ হলে তা কতক্ষণ পর আবার শুরু হবে তার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা ফিফার নিয়মে নেই। ফলে বজ্রঝড়ের কারণে কোনও ম্যাচ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝুলে যাওয়ার জোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বজ্রঝড় সংক্রান্ত কঠোর নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, কোনও স্টেডিয়ামের আট মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে বাজ পড়লেই ম্যাচ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দর্শকদেরও নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে হবে। এরপর শুরু হবে ৩০ মিনিটের কাউন্টডাউন। এই সময়ের মধ্যে আর বজ্রপাত না হলে তবেই ফের ম্যাচ শুরু করা যাবে। কিন্তু নতুন করে বাজ পড়লেই ঘড়ি আবার শূন্য থেকে শুরু হবে। অর্থাৎ বারবার বজ্রপাতে এই অপেক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য দীর্ঘ হতে পারে।

গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে এর নজির মিলেছে। চেলসি বনাম বেনফিকা ম্যাচ শেষ হতে সময় লেগেছিল ৪ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট। সেদিন প্রায় দু’ঘণ্টা খেলা বন্ধ ছিল। সবচেয়ে বড় সমস্যা, ফিফার নিয়মে এমন কোনও উর্ধ্বসীমা নেই যার পরে ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করা যাবে। ফিফা জানিয়েছে, প্রতিটি পরিস্থিতি আলাদা করে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু খেলা স্থগিত হলে গোটা সূচি নতুন করে সাজানো বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।আবহাওয়া নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিফা। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর আবহাওয়া ও জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক চলছে। প্রতিটি স্টেডিয়ামকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও দর্শক সরিয়ে নেওয়ার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রাখতে বলা হয়েছে। বজ্রপাত ও খারাপ আবহাওয়ার প্রোটোকল স্থানীয় আইন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনেই তৈরি করা হয়েছে।শুধু বজ্রপাত নয়, তাপপ্রবাহও ফিফার চিন্তার কারণ। সংস্থা জানিয়েছে, তারা রিয়েল-টাইম ডেটার ভিত্তিতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করবে। প্রয়োজন হলে কুলিং ব্রেক বাড়ানো, ম্যাচের সময় পরিবর্তনের মতো জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপ দেখিয়ে দিয়েছে, উত্তর আমেরিকার আকাশ বিশ্বকাপের বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে। ৪৮ দলের এই মেগা টুর্নামেন্টে ঠাসা সূচির মধ্যে এক-একটা ম্যাচ ঘণ্টার পর ঘণ্টা পিছোলে গোটা বিশ্বকাপের ক্যালেন্ডারই ওলটপালট হয়ে যেতে পারে। ফলে কোন দল কাপ জিতবে তার পাশাপাশি, কোনও ম্যাচ ৯০ মিনিটে শেষ হবে নাকি আকাশের খামখেয়ালিতে মাঝপথে আটকে যাবে, সেটাও এবার বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। মাঠের লড়াই যতটা গুরুত্বপূর্ণ, আকাশের অবস্থাও ততটাই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে ২০২৬ বিশ্বকাপে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *