বাতাসে এখনও মৃত্যুর গন্ধ! ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃত ১৭১৯, নিখোঁজ হাজার হাজার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- ভয়াল ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পরেও ভেনেজুয়েলায় মৃত্যুমিছিল থামছে না। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আটকে বহু মানুষ। সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা পেরোল ১৭১৯। জখম ৫ হাজারের বেশি। নিখোঁজের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। উদ্ধারকারীরা জানাচ্ছেন, জীবিত উদ্ধারের আশা কার্যত শেষ।
গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় ভোরে পরপর দু’টি বিধ্বংসী ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দেয় কারাকাস-সহ ভেনেজুয়েলার একাধিক এলাকা। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য বলছে, ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরন শহরের পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ কিমি গভীরে ছিল প্রথম কম্পনের উৎসস্থল। রিখটার স্কেলে মাত্রা ৭.২। ঠিক ৪০ সেকেন্ডের মাথায় আছড়ে পড়ে দ্বিতীয় কম্পন, মাত্রা ৭.৫। ভূপৃষ্ঠ থেকে গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিমি। এক মিনিটের কম সময়ে জোড়া ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে যায় চারপাশ।
উদ্ধারকারীদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই। তবুও পুরোদমে চলছে উদ্ধারকাজ। নিখোঁজ আপনজনদের খুঁজতে ধ্বংসস্তূপের চারপাশে ঘুরছেন বহু মানুষ। তাঁদের দাবি, দেহ না পাওয়া পর্যন্ত আশা ছাড়বেন না।
তবে উদ্ধারকাজের গতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রশাসন। যদিও সেনা ও পুলিশের তরফে বেঁচে যাওয়া মানুষদের কাছে টুনা মাছ ও কাঁকড়া পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ৯০ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ ফিরেছে। চালু হয়েছে ১৫টি ত্রাণশিবির।
এর মধ্যেই সোমবার ফের কেঁপে উঠেছে ভেনেজুয়েলা। রিখটার স্কেলে ৪.৬ মাত্রার নতুন কম্পনে ক্ষয়ক্ষতি না হলেও আতঙ্ক বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষের।
এক সপ্তাহ পরেও ভেনেজুয়েলার আকাশে-বাতাসে মৃত্যুর গন্ধ। জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই নতুন কম্পন বাড়াচ্ছে উদ্বেগ। মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়তে থাকায় স্পষ্ট, লাতিন আমেরিকার এই দেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা।
