শোকের মধ্যেও দায়িত্বে অবিচল গাকপো: গোল করলেন, তবুও থামল ডাচদের বিশ্বকাপ দৌড়
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- সন্তানশোক বুকে নিয়েই দেশের জন্য মাঠে নেমেছিলেন কোডি গাকপো। ৭২ মিনিটে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়েও দেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। পেনাল্টি শুটআউটে মরক্কোর কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ডাচরা। গোলের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন লিভারপুল তারকা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই গাকপো ও তাঁর বান্ধবী নোয়া ভ্যান ডার বিজ জানিয়েছিলেন, অক্টোবরে তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান আসছে। কিন্তু শনিবার গর্ভাবস্থাতেই মারা যায় তাঁদের অনাগত পুত্রসন্তান। টিম ম্যানেজমেন্ট ছুটি দিলেও বিশ্বকাপের মঞ্চ ছাড়েননি গাকপো।
মঙ্গলবার ভোরে রাউন্ড অফ ৩২-এর মরণবাঁচন ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে নামেন তিনি। সন্তানশোকে বিহ্বল গাকপো ম্যাচের অধিকাংশ সময় জ্বলে উঠতে পারেননি। প্রথম থেকেই দাপট ছিল আশরাফ হাকিমিদের। ৬৫ মিনিটের পর খানিকটা আক্রমণে ফেরে নেদারল্যান্ডস। ৭২ মিনিটে গাকপোর গোলে এগিয়ে যায় কমলা ব্রিগেড। গোল করেই ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন তিনি। সতীর্থরা জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন।
ডাচভক্তরা যখন পরের রাউন্ডের স্বপ্ন দেখছেন, তখনই ছন্দপতন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচ ১-১। একস্ট্রা টাইম পেরিয়ে খেলা গড়ায় পেনাল্টিতে। বিশ্বকাপে ডাচদের পেনাল্টিভাগ্য বরাবরই খারাপ। গত তিন বিশ্বকাপের দু’টিতে খেলে দু’বারই টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। এবারও ব্যতিক্রম হল না। প্রথম শট জালে জড়ালেও শেষ পর্যন্ত মরক্কোর কাছে হার মানতে হল ডাচদের।
ব্যক্তিগত শোক সরিয়ে দেশের জার্সিতে লড়াই, গোল করে দলকে এগিয়ে দেওয়া — মাঠে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন গাকপো। তবুও পেনাল্টিতে ভাগ্য সঙ্গ দিল না। টাইব্রেকার-অভিশাপে ফের থামল নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ যাত্রা। গাকপোর লড়াইটা মনে রাখবে ফুটবল, কিন্তু স্কোরবোর্ডে জয় লেখা হল না।
