আজকের দিনেবাংলার আয়না

চুঁচুড়ায় মিটল ‘অসিত-রচনা’ দ্বন্দ্ব!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,চুঁচুড়া: টিকিট না পেয়ে দলের সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে রণংদেহি মূর্তি ধারণ করেছিলেন চুঁচুড়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার, শুক্রবার তা আমূল বদলে গেল। এদিন চুঁচুড়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের সঙ্গে কোদালিয়া ১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে বেরিয়ে অসিতবাবু স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— রচনার সঙ্গে তাঁর বিবাদের অধ্যায় এখন ‘অতীত’।

এদিন দেবাংশুকে পাশে নিয়ে খোশমেজাজে প্রচার সারেন অসিত মজুমদার। একসময় রচনার বিরুদ্ধে ‘কাটমানি’ খাওয়া বা তাঁর টিকিট কাটার নেপথ্যে ‘কানভারী’ করার যে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন, এদিন তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,“ওটা একটা অধ্যায় ছিল, সেই অধ্যায় এখন সমাপ্ত। উনি আমাদের দলের সাংসদ। আমি চাই রচনাও দেবাংশুর হয়ে প্রচার করুন। দল বললে ওঁর সঙ্গেও একসঙ্গে প্রচারে বেরোব।” রচনার ‘সেলিব্রিটি’ ইমেজকে গুরুত্ব দিয়ে অসিতবাবু আরও জানান, দল নির্দেশ দিলে ও সাংসদ সময় পেলে তাঁরা হুগলিতে একসঙ্গেই হাঁটবেন।

 উল্লেখ্য, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রচনার ওপর খড়্গহস্ত ছিলেন অসিত মজুমদার। গত ২৯ মার্চ রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেছিলেন, রচনা নির্দল হয়ে দাঁড়ালে তিনিও নির্দল হয়ে দাঁড়াবেন এবং না হারাতে পারলে মাথা মুড়িয়ে ঘুরবেন। এমনকি দেবাংশুর হার নিশ্চিত বলেও বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন তিনি। রচনার পক্ষ থেকেও অবশ্য এই অভিযোগগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

 রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিবাদ মেটাতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দেবাংশু, অসিত এবং স্থানীয় মহিলা ও যুব নেতৃত্বকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরেই অসিত মজুমদারের সুর নরম হওয়া এবং দেবাংশুর হয়ে কোমর বেঁধে নামা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ভোটের মুখে চুঁচুড়ার এই অন্তর্দ্বন্দ্ব মিটে যাওয়ায় স্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। এখন দেখার, ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ ও চুঁচুড়ার ‘দাদা’কে কবে একসঙ্গে দেবাংশুর সমর্থনে মিছিলে দেখা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *