Tarunjyoti : ‘প্যানেলিস্টদের সঙ্গে কী চ্যাট হত, সব জানি’: অদিতিকে নিয়ে বিস্ফোরক তরুণজ্যোতি !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার হতেই কীর্তন শিল্পী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সিকে নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। রিয়ালিটি শোয়ের প্যানেলিস্টদের সঙ্গে অদিতির ‘গোপন কথোপকথনের স্ক্রিনশট’ ফাঁসের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে দেবরাজের আয়বহির্ভূত সম্পত্তিতে অদিতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তরুণজ্যোতি।
আয়বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি ও আর্থিক অনিয়মের মামলায় বুধবার পুরুলিয়া থেকে তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। এর এক সপ্তাহ আগেই আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয় তাঁর। অন্যদিকে চার মাসের সন্তানের কথা ভেবে কলকাতা হাই কোর্ট অদিতি মুন্সিকে রক্ষাকবচ দিয়েছে। তবে তাঁর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে এবং বাগুইআটি থানা এলাকায় ঢোকা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এই প্রেক্ষিতেই এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি করেন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর বক্তব্য, “ভোটের সময়ে আমি কিছু বলিনি। নইলে আমার কাছে যা স্ক্রিনশট ছিল ফাঁস করে দিতে পারি। অদিতি যখন গানের প্রতিযোগিতায় গিয়েছিলেন, প্যানেলের সদস্যদের সঙ্গে কী ধরণের চ্যাট হত, সব আমার কাছে আছে।” তবে অদিতির সন্তানের কথা ভেবে এখনও চুপ আছেন বলে জানান তিনি।
তরুণজ্যোতি আরও খোঁচা দেন অদিতির পুরনো মন্তব্য নিয়ে। “নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, ‘স্বামী চুরি করলে আমিও জেলে যাব।’ তাহলে এখন জামিন চাইতে গেলেন কেন?” দেবরাজের বিরুদ্ধে রাজারহাট-গোপালপুর থেকে নিউটাউন পর্যন্ত সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ টেনে বিজেপি বিধায়কের দাবি, “দেবরাজের সম্পত্তির কিছুটা অদিতির নামেও ছিল। উনি জানতেন স্বামী ডাকাতি করছেন, তারপরও থেকে গিয়েছেন।”
২০২৬-এর ভোটের আগে অভিযোগ ওঠে, অদিতি ও দেবরাজ প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে হস্তান্তর করেছেন। এছাড়া নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি কম দেখানো, তোলাবাজি, জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে দম্পতির বিরুদ্ধে।
দেবরাজের গ্রেপ্তারির পর রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রক্ষাকবচ পেলেও আদালতের একাধিক শর্তে বাঁধা পড়েছেন তিনি। অন্যদিকে তরুণজ্যোতির ‘স্ক্রিনশট ফাঁসের হুঁশিয়ারি’ ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে এই ইস্যু রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
