Suvendu Adhikari : “পুলিশের গায়ে হাত পড়লে বরদাস্ত নয়”, প্রথম জেলা সফরেই হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :-
অপরাধীদের হাতে পুলিশের নিগ্রহ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই পুলিশের সর্বস্তরে কড়া বার্তা পৌঁছে দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল প্রথম জেলা সফরে ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “পুলিশ মার খেয়েছে, এই ঘটনা যেন কোনও ভাবে আমার কানে না-আসে।”
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটাই শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম জেলা সফর। গতকাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থেকে রাজ্যের সমস্ত স্তরের পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগারওয়ালও। সেখান থেকেই পুলিশ বাহিনীর উপরতলা থেকে নিচুতলা পর্যন্ত নিজের কড়া অবস্থান জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
অতীতে রাজ্যে বহুবার অশান্তি রুখতে গিয়ে পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে। দুষ্কৃতীদের হাতে রক্তাক্ত হয়েছেন পুলিশকর্মীরা। নতুন সরকার যে এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করবে না, গতকাল তা স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই ধর্মীয় স্থানে লাউড স্পিকার ব্যবহারে লাগাম টেনেছে বিজেপি সরকার। এই নির্দেশ কার্যকর করতে ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ধর্মীয় কারণে অশান্তি হলে, যার যতটা ভূমিকা তার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এই প্রসঙ্গে উঠে আসে সাম্প্রতিক আমডাঙা ও আসানসোলের ঘটনা। আসানসোলের মতো পরিস্থিতিতে পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ রকম ঘটনা ঘটলে, দরকার হলে আমি নিজে ফাঁড়িতে বসে থেকে কাজ কী ভাবে করাতে হয় দেখব।”
সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ অভিযুক্তদের কাছ থেকেই আদায় করতে হবে বলে পুলিশকে নির্দেশ দেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি পুলিশকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আপনারা যে গাড়ি চড়েন, সেই গাড়ির নথিপত্র ঠিক আছে কি না, সেটাও দেখে নেবেন।” আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে রাজ্য পুলিশের সুসম্পর্ক বজায় রাখার উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যেক থানায় ডিজিটাইজেশনের উপর গুরুত্ব দিতে বলেন তিনি। পেপারলেস ও ই-অফিসের পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত অস্ত্র ও মাদকের রেকর্ড ডিজিটাল করার নির্দেশ দেন। দেশজুড়ে অপরাধীদের তথ্যভান্ডার ‘সিসিটিএনএস’ ব্যবহারে জোর দিতে রাজ্যের পুলিশপ্রধান সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে নির্দেশ দেন তিনি। গবাদি পশু পাচারের বিরুদ্ধেও ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম জেলা সফরেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের উপর হামলা বরদাস্ত না করা থেকে গরু পাচারে ‘জ়িরো টলারেন্স’, সব ক্ষেত্রেই কঠোর অবস্থান নিল নতুন সরকার।
