আজকের দিনেতিলোত্তমা

নবান্নে শুভেন্দুর বৈঠক, হাজির তৃণমূল বিধায়করা! টলমল ঘাসফুল শিবিরের সমীকরণ?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। নবান্নে এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার তিনি কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হাওড়া— এই তিন জেলা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন। তবে এই বৈঠকের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়াল বিরোধী শিবির তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের উপস্থিতি, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কঠোর নির্দেশ ও আপত্তিকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এদিন একে একে নবান্নে এসে পৌঁছান শাসক দলের একাধিক হেভিওয়েট বিধায়ক ও নেতা।

তালিকায় ‘বিদ্রোহী’দের পাশাপাশি একাধিক হেভিওয়েট মুখ!

বৈঠকে যোগ দিতে তৃণমূলের একাংশের বিধায়কদের নবান্নে আসার তালিকায় প্রত্যাশিতভাবেই নাম ছিল ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে পরিচিত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে আসল চমক তৈরি হয় যখন দেখা যায়, তাঁদের পাশাপাশি তৃণমূলের একাধিক প্রথম সারির হেভিওয়েট নেতাও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দিতে নবান্নে হাজির হয়েছেন।

নবান্নে হাজির হওয়া প্রধান তৃণমূল নেতারা হলেন: ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, অশোক দেব, জাভেদ খান, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়

“গঠনমূলক বিরোধী হতে চাই”, নবান্নে ঋতব্রতর সুর বাকিদের গলাতেও

এর আগে মঙ্গলবারই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, তাঁরা বিধানসভায় কেবল ‘বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা’ করতে চান না, বরং একটি “গঠনমূলক বিরোধী”  দল হিসেবে মানুষের কাজ করতে চান।

বুধবার নবান্নের অলিন্দে দেখা গেল, কার্যত ঋতব্রতর সেই সুরেই সুর মিলিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম ও কুণাল ঘোষের মতো নেতারাও। সরকারের সঙ্গে সংঘাতের পথ এড়িয়ে, নিজের নিজের এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়াকেই তাঁরা শ্রেয় মনে করেছেন।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে যে বড়সড় ফাটল ধরেছে, হেভিওয়েট নেতাদের এই নবান্ন-যাত্রা তারই স্পষ্ট প্রমাণ। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নতুন সরকারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই দলের অন্দরে একাংশের এই ‘নবান্ন-মুখী’ মনোভাব আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কোনো নতুন সমীকরণের জন্ম দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *