৩০০০ টাকা পাওয়ার আগেই ধাক্কা! তালিকা থেকে বাদ ৪ হাজার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, পূর্ব মেদিনীপুর: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বদলে চালু হতে চলেছে নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) প্রকল্প। আর এই নতুন প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা স্ক্রুটিনি বা যাচাই করতে গিয়েই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ায় সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম না থাকা এবং মৃত্যুর কারণে জেলায় প্রাথমিক স্তরেই প্রায় ৪,০০০ উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে। জেলা প্রশাসনের ইঙ্গিত, স্ক্রুটিনির কাজ সম্পূর্ণ হলে এই সংখ্যাটা আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে।
কেন বাদ যাচ্ছে নাম? কী এই ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া?
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, নতুন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী জুন মাস থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে এই বিপুল আর্থিক অনুদান দেওয়ার আগে যোগ্য উপভোক্তা বাছাইয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয় নবান্ন। রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে:
-
ভোটার তালিকায় নাম থাকা বাধ্যতামূলক: এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত উপভোক্তার নাম সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁরা আর এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
-
মৃত ও অযোগ্যদের ছাঁটাই: যে সমস্ত উপভোক্তা ইতিমধ্যে মারা গিয়েছেন অথচ খাতায়-কলমে তাঁদের নামে টাকা যাচ্ছিল, সেইসব নাম কঠোরভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খতিয়ান: হাই অ্যালার্টে প্রশাসন
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মোট উপভোক্তার সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪ লক্ষ ২৮ হাজার। বর্তমানে এই বিশাল তালিকার প্রতিটি নাম বর্তমান ভোটার তালিকা এবং অন্যান্য সরকারি নথির সঙ্গে নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, সেখানকার মোট বুথ সংখ্যা ৪,৪২০টি। তার মধ্যে মোট পুরোনো উপভোক্তা ১৪ লক্ষ ২৮ হাজার। প্রাথমিক ধাপে বাদ পড়া নাম প্রায় ৪,০০০ জন। যাচাইকরণের দায়িত্বে আছেন বিএলও, বিডিও এবং এসডিও । জেলার ৪ হাজার ৪২০টি বুথ জুড়েই বুথ স্তরের আধিকারিক অর্থাৎ বিএলও-দের দিয়ে বাড়ি বাড়ি তথ্য যাচাইয়ের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।
কী বলছেন জেলাশাসক?
যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানান, “রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের যে সমস্ত উপভোক্তার নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে এবং যাঁরা মৃত, তাঁদের কোনওভাবেই নতুন অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের তালিকায় রাখা হচ্ছে না। জেলা জুড়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় স্ক্রুটিনির কাজ চলছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪,০০০ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।”
প্রশাসনিক মহলের মতে, ভুয়ো উপভোক্তা এবং বেনোজল রুখতে সরকারের এই কড়া স্ক্রুটিনির জেরে অযোগ্যদের নাম বাদ পড়লেও, জুনের শুরু থেকে রাজ্যের প্রকৃত ও আর্থিক ভাবে অনগ্রসর মহিলারা যে সঠিক সময়ে টাকা পাবেন, তা অনেকটাই নিশ্চিত হলো।
