SEBI-Scam : ১৫ লাখ কোটির মহাকেলেঙ্কারি! রাজেশ এক্সপোর্টসের বিরুদ্ধে সেবির কড়া পদক্ষেপ, বড় ধাক্কায় LIC !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: কর্পোরেট জালিয়াতির নয়া নজির গড়ল দেশের বৃহত্তম সোনার রিফাইনার রাজেশ এক্সপোর্টস লিমিটেড। সেবির দাবি, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ১৫.১৫ লাখ কোটি টাকার রাজস্বে গরমিল করেছে সংস্থাটি। এই খবর সামনে আসতেই ধস শেয়ারে। বড় লোকসানের মুখে LIC-সহ একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা।
ভারতের শেয়ার বাজারে ফের বড় স্ক্যাম। এবার কাঠগড়ায় রাজেশ এক্সপোর্টস লিমিটেড। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি জানিয়েছে, আর্থিক অনিয়ম, ভুয়ো রাজস্ব দেখানো ও তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজেশ মেহতা ও কোম্পানির বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
সেবির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে রাজেশ এক্সপোর্টস তাদের সম্মিলিত রাজস্বে প্রায় ১৫.১৫ লাখ কোটি টাকার ভুল তথ্য পেশ করেছে। এই অঙ্কটি ওই সময়ে কোম্পানির দেখানো মোট রাজস্বের ৯৯.৮০ শতাংশ।
তদন্তে উঠে এসেছে, কোম্পানির মোট আয়ের ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশই আসত বিদেশি সহযোগী সংস্থা ‘ভালকাম্বি এসএ’ থেকে। কিন্তু ভালকাম্বির অডিটেড রিপোর্টে দেখা গেছে, মূল গ্রুপ লেভেলে যে বিপুল আয় দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে তার সামান্য অংশই রয়েছে। সেবির অভিযোগ, সোনা প্রক্রিয়াকরণের প্রকৃত আয়ের বদলে সম্পূর্ণ ট্রানজ্যাকশন ভ্যালুকে রাজস্ব হিসেবে দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছে সংস্থাটি। এর সপক্ষে কোনও সঠিক ইনভয়েস, গ্রাহকদের বিবরণ বা অ্যাকাউন্টিং নথি দেখাতে পারেনি তারা।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বাজারে ধস নেমেছে রাজেশ এক্সপোর্টসের শেয়ারে। বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে দাম প্রায় ৫ শতাংশ পড়ে ১০৩ টাকায় ঠেকেছে। গত এক বছরে শেয়ারের দর প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে LIC। এই সংস্থার হাতে রাজেশ এক্সপোর্টসের ১০.৮০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে যেখানে LIC-র হোল্ডিংয়ের মূল্য ছিল ৬৩৭ কোটি টাকা, তা এখন কমে ৩৪৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও মুখ ফিরিয়েছেন। ২০২৩ সালের মার্চে যেখানে FII-দের হোল্ডিং ছিল ১৭.৬০ শতাংশ, ২০২৬ সালের মার্চে তা কমে ১৪.২৬ শতাংশে নেমেছে। বর্তমানে এফআইআই-দের হোল্ডিংয়ের মূল্য ৮৩৮ কোটি থেকে কমে ৪৫৬ কোটি টাকায় নেমেছে।
এর আগেও ২০২৩ সালে ক্যাশ-ফ্লো স্টেটমেন্ট জমা না দেওয়ায় NSE কোম্পানির কাছে জবাবদিহি চেয়েছিল। অডিট রিপোর্ট গোপনের অভিযোগও উঠেছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অডিটরদের ভূমিকা পরীক্ষার জন্য NFRA-এর কাছেও সুপারিশ করেছে সেবি।
১৫ লাখ কোটির এই আর্থিক কারচুপি দেশের কর্পোরেট জগতে নজিরবিহীন। রাজেশ এক্সপোর্টসের শেয়ার ধসে LIC-র কোটি কোটি টাকা লোকসান সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধাক্কা দিল। সেবির কড়া পদক্ষেপের পর রাজেশ মেহতা ও তার সংস্থার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। আগামী দিনে এই মামলা কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।
