আজকের দিনেবাংলার আয়না

স্কুলের পোশাকেও ‘কাটমানি’র থাবা? তদন্তের আশ্বাস

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,সিউড়ি: স্কুলের পড়ুয়াদের পোশাক তৈরিতেও এবার দুর্নীতির ছায়া? কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ‘কাটমানি’ চাওয়ার মারাত্মক অভিযোগ তুলে এবার সরব হলেন স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। বীরভূমের সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকে সরকারি প্রকল্পের এই কাজকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে ব্লক প্রশাসন।

 কী নিয়ে বিতর্ক? বঞ্চিত স্থানীয় মহিলারা

আন্দোলনকারী মহিলাদের অভিযোগ, ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের আওতায় তাঁরা স্কুলের পোশাক কাটা এবং সেলাইয়ের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। আশা ছিল, প্রশিক্ষণ শেষে সরকারি নিয়মে স্কুলের পোশাক তৈরির কাজ পাবেন তাঁরাই। কিন্তু তাঁদের দাবি, স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের বঞ্চিত করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই কাজ অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কাটমানি দিয়েও মেলেনি কাজ!

বিক্ষোভকারীদের বিস্ফোরক দাবি, কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ‘কাটমানি’ বা কমিশন চাওয়া হয়েছিল। অভাবের সংসারে কাজের আশায় সেই শর্ত মেনে নেওয়ার পরেও শেষ রক্ষা হয়নি। কাজ পাননি স্থানীয় মহিলারা।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, পরবর্তীতে মুর্শিদাবাদ থেকে কয়েকজন এজেন্টকে নিয়ে এসে এই কাজ করানো হচ্ছে। ফলে প্রশিক্ষণ থাকার সত্ত্বেও কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের একজন, অনুপমা মণ্ডল স্পষ্ট জানান, “আমরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েও কাজ পাচ্ছি না। বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করানো হচ্ছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদেই আমরা পথে নেমেছি।”

নতুন বিধায়কের দ্বারস্থ হতেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন

এই ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। এরপর বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সরাসরি দ্বারস্থ হন সিউড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের। মহিলারা তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা বিধায়কের সামনে তুলে ধরতেই সক্রিয় ভূমিকা নেন তিনি। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিডিও-কে বার্তা দেন বিধায়ক।

প্রশাসনের আশ্বাস: বিধায়কের বার্তার পরেই নড়েচড়ে বসেছে ব্লক প্রশাসন। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আন্দোলনকারী মহিলাদের সমস্ত অভিযোগ লিখিত আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে। একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তকারী দল গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের পক্ষ থেকেও আন্দোলনকারী মহিলাদের বিরুদ্ধে কিছু পাল্টা অভিযোগ আনা হয়েছে; প্রশাসন দুই পক্ষের দাবিই খতিয়ে দেখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *