ভাগ্যচক্রে শনির মহাদুর্যোগ! সিংহ ও ধনুর সংকট রুখতে জেনে নিন ৭টি অব্যর্থ দাওয়াই
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে ন্যায়ের দেবতা এবং সবচেয়ে ধীরগতিসম্পন্ন গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শনি একটি রাশিতে প্রায় আড়াই বছর অবস্থান করে। গোচরকালে শনি যখন কোনো রাশির চতুর্থ বা অষ্টম ঘরে প্রবেশ করে, তখন সেই রাশির ওপর শনির ‘ধাইয়া’ পর্ব শুরু হয়, যা মানুষের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে শনি মীন রাশিতে অবস্থান করছে এবং ২০২৬ সালেও এই রাশিতেই থাকবে। এই গোচরের কারণে সিংহ এবং ধনু রাশি বর্তমানে শনি ধাইয়ার প্রভাবের অধীনে রয়েছে।
শনি ধাইয়ার সময়সীমা: কখন শুরু ও কখন শেষ?
সিংহ ও ধনু রাশির জাতকদের জন্য এই কঠিন সময় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং তা চলবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত:
-
শুরু: ২৯ মার্চ, ২০২৫ থেকে এই ধাইয়া শুরু হয়েছে।
-
সাময়িক স্বস্তি: ৩ জুন, ২০২৭-এর পর এই দুই রাশির জাতকরা সাময়িক স্বস্তি পাবেন।
-
পুনরায় প্রভাব: ২০ অক্টোবর, ২০২৭ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৮ পর্যন্ত ধাইয়ার প্রভাব আবার ফিরে আসবে।
-
পূর্ণ সমাপ্তি: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৮-এর পর শনি ধাইয়ার এই দশা পুরোপুরি সমাপ্ত হবে।
শনি ধাইয়া চলাকালীন কী ঘটে?
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, ধাইয়া চলাকালীন কর্মক্ষেত্রে নানাবিধ বাধা, আর্থিক উত্থান-পতন, স্বাস্থ্য সমস্যা এবং পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তীব্র টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে। তবে এই সময়টি মানুষকে ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং সৎ কর্মের গুরুত্ব শেখার সুযোগও করে দেয়।
শনির অশুভ প্রভাব কমানোর ৭টি কার্যকর উপায়
শনির কোপদৃষ্টি বা অশুভ প্রভাব থেকে বাঁচতে জ্যোতিষশাস্ত্রে কিছু বিশেষ প্রতিকারের কথা বলা হয়েছে, যা জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে:
- শনি মন্ত্র ও চালিসা জপ: প্রতিদিন অথবা প্রতি শনিবার ‘ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ’ মন্ত্রটি জপ করুন এবং শনি চালিসা পাঠ করুন। এতে মানসিক শান্তি ফেরে।
- শনির উদ্দেশ্যে দান: শনিবার কালো তিল, কালো বস্ত্র, কালো ডাল বা সর্ষের তেল অভাবী মানুষকে দান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
- নিয়মিত হনুমানজির পুজো: মঙ্গল ও শনিবার হনুমান চালিসা পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক। বিশ্বাস করা হয়, হনুমানজির ভক্তদের শনিদেব কখনো কষ্ট দেন না।
- অশ্বত্থ গাছের পুজো: প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় অশ্বত্থ গাছের নিচে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালান এবং গাছটিকে প্রদক্ষিণ করুন।
- শিবলিঙ্গে জল নিবেদন: প্রতিদিন শিবলিঙ্গে জল নিবেদন করলে শনির কুপ্রভাবের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং মহাদেবের আশীর্বাদে জীবন শান্ত হয়।
- পশু-পাখিদের অন্নদান: কাক, কালো কুকুর বা অন্য কোনো অসহায় পশুপাখিকে নিয়মিত খাবার দিলে শনিজনিত দোষ ও মানসিক কষ্ট দ্রুত হ্রাস পায়।
- অসহায় মানুষকে সাহায্য: দরিদ্র, বয়স্ক এবং অসহায় মানুষদের সেবা করুন। শনি যেহেতু কর্মের দেবতা, তাই আপনার এই সৎকর্ম শনিদেবের নেতিবাচক প্রভাবকে আপনা-আপনিই কমিয়ে দেবে।
