শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ভাঙড়ের বোমা বিস্ফোরণ মামলায় ইতিমধ্যেই জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা-র জালে ধরা পড়েছেন ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। বর্তমানে তিনি শ্রীঘরে। আর তিনি জেলে যেতেই এবার তাঁর বিরুদ্ধে উঠল এক মারাত্মক অভিযোগ। এবার শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করলেন এক মহিলা। গত ১৫ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
২০১৯ সালের ঘটনা, সন্তানকে আটকে রেখে ব্ল্যাকমেল!
অভিযোগকারিনী মহিলার দাবি, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। সেই সময় নাকি তাঁর বছর পাঁচেকের সন্তানকে বেশ কয়েকজন সমাজবিরোধী তুলে নিয়ে যায়। সন্তানকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওই মহিলা অভিযুক্তদেরই একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জানা গেছে, ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি শওকত মোল্লার গাড়িচালকের দাদা।
মহিলার অভিযোগ, সন্তানকে ফেরত দেওয়ার নাম করে তাকে একটি ডেরায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চরম মারধর করা হয় এবং ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ওই নৃশংস ঘটনার ছবি ও ভিডিও তুলে রেখে তাকে লাগাতার ব্ল্যাকমেল করা হতে থাকে। হুমকি দেওয়া হয়— ‘যখনই ডাকা হবে, তখন না আসলে সন্তানকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।’ লোকলজ্জা ও সন্তানের ক্ষতির ভয়ে এতদিন মুখ খুলতে পারেননি ওই বধূ।
শওকত মোল্লার ডেরায় পাঠানোর অভিযোগ
নির্যাতিতার আরও চাঞ্চল্যকর দাবি, ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ওই মূল অভিযুক্তই তাকে শওকত মোল্লার ডেরায় পাঠায়। মহিলার অভিযোগ, সেখানে খোদ শওকত মোল্লাও তাকে ধর্ষণ করেন। এতদিন তীব্র ভয়, আতঙ্ক এবং লজ্জার কারণে তিনি থানায় বা কারও কাছে কিচ্ছু জানাতে পারেননি।
জেলে শওকত, অবশেষে মুখ খুললেন নির্যাতিতা
ভয় কাটিয়ে এতদিন পর কেন অভিযোগ? মহিলা জানিয়েছেন, শওকত মোল্লা বাইরে থাকার সময় তাঁর মারাত্মক দাপট ছিল, তাই ভয়ে মুখ খোলেননি। কিন্তু সম্প্রতি ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় এনআইএ-র হাতে শওকত গ্রেপ্তার হতেই সাহস পান তিনি। এবার সুবিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন ওই বধূ।
কী এই ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলা?
উল্লেখ্য, বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। ঘটনার তদন্তে নেমে এনআইএ-র একাধিক দল ভাঙড়ে হানা দেয়। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়ি এবং দলীয় কার্যালয়-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা।
তল্লাশির আগেই অবশ্য এলাকা ছাড়েন শওকত। তবে শেষরক্ষা হয়নি। বেশ কয়েকদিন পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই শওকতকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। যদিও তাঁর পরিবারের দাবি ছিল, শওকত নিজেই আত্মসমর্পণ করেছেন। এনআইএ-র দাবি, এই বিস্ফোরণ কাণ্ডের অন্যতম মূল সন্দেহভাজন এই প্রাক্তন বিধায়ক।
বর্তমানে সংশোধনাগারের চার দেওয়ালের ভেতরেই দিন কাটছে শওকতের। আর তার মাঝেই এই নতুন ধর্ষণের মামলা প্রাক্তন বিধায়কের অস্বস্তি ও আইনি চাপ যে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। জীবনতলা থানার পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
