ব্রিগেডের মঞ্চে মাখনলাল সরকারকে পা ছুয়ে প্রণাম প্রধানমন্ত্রী মোদীর , কে ইনি ?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আজ ব্রিগেডে বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তৈরি হল এক আবেগঘন মুহূর্ত । সভা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী এক বৃদ্ধ কে সম্মান জানিয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন। তারপর ওনার পরিচয় নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহল ছড়ায়, পরে বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তার পরিচয় এবং তার কীর্তি সম্পর্কে জানান ।
জানা যায়, ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির অন্যতম সহযোগী ছিলেন মাখনলাল সরকার, যাকে আজকের মঞ্চে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন প্রধানমন্ত্রী । শ্যামাপ্রসাদের জীবনের অন্তিম পর্যায়ে ছায়া সঙ্গী ছিলেন শিলিগুড়ির বাসিন্দা ও বিজেপির আদি যুগের অন্যতম সৈনিক মাখনলাল । বিজেপির দাবি, কাশ্মীর আন্দোলনের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সফরের অন্যতম সঙ্গী ছিলেন এই প্রবীণ নেতা । কাশ্মীরে তেরঙ্গা উত্তোলনের ঐতিহাসিক অভিযানের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে সেই সময় তারই সঙ্গে জেলবন্দী ছিলেন মাখনলাল সরকার। পরবর্তীতে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় । শপথ মঞ্চে নিজের ভাষ্যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘১৯৫২ সালে কাশ্মীরে আন্দোলনের সময় মাখনলাল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শেষ জীবনেও ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ছিলেন।’ গেরুয়া শিবিরের মতে, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির যে ভিত গড়ে উঠেছিল, মাখনলাল সরকার ছিলেন সেই প্রজন্মের অন্যতম মুখ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মাখনলাল উত্তরবঙ্গে বিজেপির সংগঠন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠনের পর তাঁকে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হাজার হাজার সদস্য সংগ্রহ করে উত্তরবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। পরে তিনি শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার প্রথম বিজেপি সভাপতি হন। টানা সাত বছর জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলেছিলেন মাখনলাল। বিজেপির এই প্রবীণ নেতার আরো একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা তুলে ধরেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানান মাখনলাল সরকারকে কংগ্রেস আমলে দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। আদালতে বিচারক তাকে ক্ষমা চাইতে বললে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং আদালতে সেই গান গেয়ে শোনান । বিচারক তার গান শুনে আবেগঘন হয়ে প্রথম শ্রেণীর টিকিট এবং ১০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকার গঠনের মঞ্চে মাখনলাল সরকারের মতো প্রবীণ কর্মীকে সামনে নিয়ে আসা দলীয় আবেগ এবং সংগঠনের ইতিহাস কে সামনে তুলে ধরার একটা প্রচেষ্টা ।
