আজকের দিনেতিলোত্তমা

পুলিশের রেসপন্স টাইম কমবে ৬ মিনিটে! পুজোর আগেই রাজ্যে চালু ১১২ হেল্পলাইন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতাঃ রাজ্যে নারী সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে একগুচ্ছ বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও পুলিশের রেসপন্স টাইম (ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর সময়) কমিয়ে মাত্র ৬ মিনিট করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। এই উদ্দেশ্য সফল করতে আগামী দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যজুড়ে চালু হতে চলেছে সেন্ট্রালাইজড ‘১১২’ হেল্পলাইন নম্বর।
​বুধবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট বা মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। অথচ পশ্চিমবঙ্গে এই সময়টা গড়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা। এই দীর্ঘসূত্রতা কাটাতেই প্রত্যেক থানায় একটি করে নির্দিষ্ট গাড়ি বরাদ্দ করা হচ্ছে, যা শুধুমাত্র হেল্পলাইনের ডাকে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কাজ করবে।

​‘অভয়া আর না’, নারী সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ
​আরজি কর, কামদুনি বা পার্ক স্ট্রিটের মতো নৃশংস ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, “অভয়া আর না। এই ধরনের ঘটনা রাজ্যে আর বরদাস্ত করা হবে না।” মহিলাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামীকাল থেকেই রাজ্যের প্রতিটি থানায় চালু হচ্ছে বিশেষ ‘মহিলা হেল্প ডেস্ক’। এ ছাড়াও নারী সুরক্ষায় একঝাঁক নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি:
মহিলা থানা: রাজ্যের প্রতিটি মহকুমায় অন্তত একটি করে সম্পূর্ণ মহিলা থানা গড়ে তোলা হবে।
​দুর্গা স্কোয়াড: নারী সুরক্ষায় বিশেষ নজরদারি চালাতে মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে বিশেষ ‘দুর্গা স্কোয়াড’।
নারী সুরক্ষা কমিশন: অতীতে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনার সঠিক বিচারের জন্য গঠন করা হয়েছে বিশেষ কমিশন। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় এই কমিশনের চেয়ারপারসন এবং দুঁদে আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন।

​পুরনো অপরাধেরও হবে বিচার, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের হুঁশিয়ারি
​মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, অতীতে যাঁরা নারী নির্যাতনের শিকার হয়েও বিচার পাননি, তাঁরা সরাসরি এই নবগঠিত কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারেন। অপরাধীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মহিলাদের ওপর অত্যাচার করলে পার পাওয়া যাবে না। দোষীরা শুধু জেলেই যাবে না, প্রয়োজনে তাদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।”
​উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই মহিলা ক্ষমতায়নে একাধিক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সব সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত, অন্নপূর্ণা যোজনা এবং নারীদের উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সহায়তার মতো প্রকল্প চালু হয়েছে। এবার নারী ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নারী সুরক্ষাকেই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরল নবান্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *