আজকের দিনেবাংলার আয়না

কলম ক্যামেরায় নার্সদের পোশাক বদলের ভিডিও রেকর্ড! ইটাহারে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত চিকিৎসক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ইটাহার: চিকিৎসকের মতো এক মহৎ পেশায় যুক্ত থেকে এ কেমন মানসিকতা! নার্সদের পোশাক বদলের ঘরে গোপনে ‘পেন ক্যামেরা’ বা কলম ক্যামেরা রেখে ভিডিও রেকর্ডিং করার মারাত্মক অভিযোগ উঠল এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, তবে গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতার হাতে বেধড়ক মার খেতে হয় তাঁকে। ধৃত চিকিৎসকের নাম বিশ্বজিৎ ঘোষ। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্তম্ভিত সাধারণ মানুষ।

​যেভাবে ধরা পড়ল চিকিৎসকের কীর্তি
​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইটাহার ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত নার্সদের পোশাক বদল করার জন্য একটি নির্দিষ্ট ড্রেসিং রুম রয়েছে। অভিযোগ, গত ১০ জুন ডিউটি চলাকালীন সেই ঘরে গোপনে একটি হাই-টেক কলম ক্যামেরা রেখে এসেছিলেন চিকিৎসক বিশ্বজিৎ ঘোষ। পোশাক বদলানোর সময় আচমকাই পেনটির দিকে নজর যায় এক নার্সের। পেনের গায়ে একটি আলো জ্বলতে দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। তিনি তৎক্ষণাৎ পেনটি সেখান থেকে সরিয়ে নেন। পরবর্তীতে চিকিৎসক বিশ্বজিৎ নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

দীর্ঘদিনের অভ্যাস! বিস্ফোরক অভিযোগ নার্সদের
​নার্সদের অভিযোগ, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে ডিউটি চলাকালীন ড্রেসিং রুমে গোপনে এই কলম ক্যামেরা রেখে আসতেন ওই চিকিৎসক। দিনের পর দিন ধরে এভাবেই নার্সদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা হচ্ছিল।

বিএমওএইচ-কে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ, আসরে পুলিশ ও বিডিও
​এই ঘটনা জানাজানি হতেই মঙ্গলবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নার্স ও তাঁদের অভিভাবকেরা। কড়া শাস্তির দাবিতে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক মনু গোরাকে ঘিরে ধরে চলে তুমুল বিক্ষোভ। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ইটাহার থানার আইসি অভিষেক তালুকদার। তিনি বিক্ষোভরত নার্সদের সঙ্গে কথা বলে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইটাহারের বিডিও দিব্যেন্দু সরকার জানান, “গোটা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”

পুলিশের সামনেই গণধোলাই, বাজেয়াপ্ত ক্যামেরা
​মঙ্গলবার নার্সদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত চিকিৎসক বিশ্বজিৎ ঘোষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে পুলিশ যখন তাকে গাড়িতে তুলতে যায়, তখন উপস্থিত উত্তেজিত জনতা আর নিজেদের ধরে রাখতে পারেনি। পুলিশের সামনেই অভিযুক্ত চিকিৎসককে বেধড়ক মারধর ও গণধোলাই দেওয়া হয়। পুলিশ কোনওমতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্তকে থানা নিয়ে যায়। ঘটনার মূল হাতিয়ার অর্থাৎ ওই কলম ক্যামেরাটি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এর ভেতরে আর কার কার ভিডিও রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *